স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: আদালতে জামিনের আবেদনের শুনানির জন্য সময় চেয়ে নিলেন ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত গানের শিক্ষক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। বুধবার জামিনের আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু, এদিনই কেসের তদন্তকারী অফিসার অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় মামলায় জামিন অযোগ্য পকসো অ্যাক্টের ৮ ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন জানান। ধারাটি মামলায় যুক্ত করার জন্য সওয়াল করেন সরকারি আইনজীবী গৌতম মুখোপাধ্যায়।

যদিও অভিযুক্ত গানের শিক্ষকের তিন আইনজীবী সৈয়দ মহম্মদ ইয়াসিন, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও উদয়শংকর কোনার তাতে আপত্তি জানান। তদন্তে হস্তক্ষেপ না করতে চাওয়ার কথা বলে ধারাটি মামলায় যুক্ত করার জন্য নির্দেশ দেন পকসো আদালতের বিচারক পার্থপ্রতিম দত্ত। এদিন শহরের জগৎবেড় এলাকার এক কিশোরীর গোপন জবানবন্দি নথিভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন পকসো আদালতের বিচারক।

আগামী ২৮ জুন আগাম জামিনের আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেন বিচারক। অভিযুক্ত কল্যাণের বিরুদ্ধে গানের স্কুলে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়া ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। হরিসভা হিন্দু হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর মা এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্কুলের পোশাক ছিড়ে দেওয়া, মোবাইলে অশ্লীল মেসেজ পাঠানো, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কল্যাণের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্রী ও তার মায়ের আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কল্যাণের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, গানের ক্লাসের ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়া এমনকি তাঁদেরকে শ্লীলতাহানি করারও অভিযোগ ওঠে বর্ধমান শহরের এক সঙ্গীত শিক্ষক কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয় গোটা শহর জুড়ে। ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, এই অশ্লীলতার বিরুদ্ধে তাঁরা বর্ধমান সদর থানায় ওই সঙ্গীত শিক্ষক কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যান।

কিন্তু রীতিমত উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই কর্তব্যরত থানার অফিসার অভিযোগ নিতে কার্যত অস্বীকার করতে থাকেন। একইসঙ্গে তাঁদের থানায় বসিয়ে রাখারও ্ভিযোগ ওঠে। প্রায় ছয় বার অভিযোগ লেখানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ কিন্তু বারেবারে সেই অভিযোগে ত্রুটি থাকার অজুহাতে অভিযোগ বাতিল করানো হয়৷ এই ঘটনায় রীতিমত ক্ষুব্ধ খোদ বর্ধমান পুরসভার পুরপ্রধান ডা. স্বরূপ দত্তও।

সঙ্গীত শিক্ষক কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হলেও পুলিশি ভূমিকা নিয়েই রীতিমত সরব হয়েছেন ছাত্রী থেকে অভিভাবকরা। বর্ধমান হরিসভা হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জানিয়েছিলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কলাবতী মিউজিক অ্যাকাডেমি’তে গান শিখতে যান অনেক ছাত্রীই। বর্তমানে শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকায় বর্ধমান শহরের বড়বড় প্রোগ্রামে কল্যাণবাবুরই ডাক পড়ে।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ ছিল, মোবাইলে ম্যাসেজ করে তাঁকে কুপ্রস্তাব দিতেন কল্যাণবাবু। দিন কয়েক আগে তাঁকে গানের স্কুলে একা পেয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন ওই শিক্ষক। কোনও রকমে সে পালিয়ে যায়। এরপর গোটা বিষয়টি ছাত্রীটি তাঁর মাকে জানায়। যদিও অভিযুক্ত জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি কিছু বলবেন না৷ তিনি তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলছেন। যা বলার তিনি পরে বলবেন।

----
--