ছবি : প্রতীকী

স্টাফ রিপোর্টার, বাসন্তী: এবার রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বলি প্রকৃতি। এলাকায় ভোটে হেরে যাওয়ায় দলেরই এক কর্মীর বাড়ির ২০০টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে৷ ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তী থানার রাধারানীপুরে। দলের অপরগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী মুকুন্দমুরারী দাস। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷

স্থানীয় সূত্রের খবর, জ্যোতিষপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আদি তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত মুকুন্দবাবু৷ তিনি এলাকায় দলের বুথ সভাপতি ও স্থানীয় জ্যোতিষপুর হাইস্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি৷ সম্প্রতি সিপিএম, আরএসপি দল থেকে কিছু নেতা তৃণমূলে যোগ দেন৷ অভিযোগ, এরপর থেকেই দলে যোগ্য সম্মান পাচ্ছিলেন না তিনি। এলাকার রাস্তাঘাট উদ্বোধন হোক বা পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই সবেতেই তিনি ছিলেন ব্রাত্য। ফলে এবারের ভোটে তিনি সেই অর্থে দলের হয়ে প্রচারে বেডা়ননি৷

Advertisement

ফলে ১৭ তারিখে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা যায় আরএসপি প্রার্থী বৈকুণ্ঠ গিরির কাছে মাত্র ১২ ভোটে হেরে যান তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ জানা। অভিযোগ, সেই হারের আক্রোশ গিয়ে পড়ে মুকুন্দবাবুর ওপর৷ অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার দিনই রাতের অন্ধকারে দলের অপর গোষ্ঠী তাঁর বাড়ির দুশোটির বেশি গাছ কেটে দেয়৷ মুকুন্দবাবুর অভিযোগ, ‘‘দলে যোগ্য সম্মান পাচ্ছিলাম না বলে এবারের ভোটে আমি সক্রিয়ভাবে দলের প্রচারে বেড়ায়নি৷ সেই আক্রোশেই সদ্য আরএসপি থেকে তৃণমূলে আসা যদুপতি কয়াল রাতের অন্ধকারে আমার বাড়ির ২০০টির বেশি গাছ কেটেছে৷’’

ঘটনার জেরে এলাকায় তৃণমূলের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ দলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে এবারে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরাও৷ তাঁদের কথায়, প্রকৃতিক ভারসাম্যন রক্ষার জন্য রাজ্য সরকার সবুজশ্রীর মত প্রকল্প বা ‘গাছ লাগাও প্রান বাঁচাও’ এর মত কর্মসূচী গ্রহন করছেন, সেখানে শাসক দলের কর্মীরা কিভাবে প্রকৃতিকে রাজনৈতিক হিংসার বলি করলেন৷ অভিযুক্ত যদুপতি কয়ালের অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷

----
--