আকাশে জুড়ে ১৩ শহিদের আলোকগাথা

ছবি অশোক মজুমদারের ফেসবুক থেকে নেওয়া

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: কবি সুকান্ত লিখেছিলেন, ‘পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’। চাঁদ উঠেছে আরও এক রাতে। কিন্তু তা ঝলসানো রুটির মতো নয়। এই চাঁদ উজ্বল। কারন এই চাঁদের গায়ে লেগে রয়েছে বন্দনা, মুরারী, রতনদের একুশে জুলাইয়ের লড়াইয়ের স্মৃতিকথা। আরও একটা একুশের সভার আগে অশোক মজুমদারের লেন্সবন্দি ছবি যেন তেমন কথাই বলছে।

ওরা চলে গিয়েছে অনেক আলোকবর্ষ দূরে। চাঁদ বলছে শহীদরা রয়েছে চাঁদের দেশে। তাই একুশের মেঘাছন্ন রাতে পরিষ্কার ওদের উপস্থিতি। ধর্মতলার সভামঞ্চে দলের পতাকা বাঁধতে বাঁধতে আর মুখে ‘মমতা ব্যানার্জী জিন্দাবাদ’, ‘যুব কংগ্রেস জিন্দাবাদ’ বলতে বলতে পুলিশের গুলিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন মুরারি চক্রবর্তীরা।

আরও পড়ুন: ট্রেন্ড ভেঙে একুশেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিই প্রাপ্তি কলকাতার

- Advertisement -

নিথর দেহকে সামনে রেখে লাশ গোনার মধ্যে দিয়ে নির্মম আক্রমণের উন্মাদ নৃত্য শুরু হয়েছিল। জ্যোতি-বুদ্ধ দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত থেমেছিল ১৩ জন শহীদের প্রাণের বিনিময়ে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ প্রায় সমস্ত শীর্ষস্থানীয় যুব-কংগ্রেস নেতা নেত্রীদের ওপর দৈহিক আক্রমনের মাধ্যমে।

একুশের স্মৃতিকে চোখের মণির মত রক্ষা করতেই তৃণমুল নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের উদ্ধত বন্দুকের নলের সামনে দাড়িয়ে নির্ভীক কণ্ঠে শহীদ মুরারী দাদার বজ্র নির্ঘোষ কণ্ঠস্বর। বলে দেওয়া হয় , যখনই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনও কারণ ঘটবে তখন স্মরণ করতে হবে গুলিবিদ্ধ বন্দন দাসের যন্ত্রণাক্লিষ্ট শেষ ক্ষীণ স্বর। সেই জন্যই একুশের চাঁদ গোল হয়েও ঝলসানো হয় না। একদিন আগেই জেগে যেন জেগে উঠেছে ওই ১৩ জনের আত্মা। শুক্রবার রাতের আকাশ যেন সেই গল্পই বলেছে।

আরও পড়ুন: রাহুলের চোখ মারার ভিডিও নিয়ে কী বললেন প্রিয়া প্রকাশ?

কর্মসূচীতে পুলিশের গুলিতে শহিদ হয়েছিলেন ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী। এরপর থেকেই প্রতি বছর ১৩ জন শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জনসভা করে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও ভোট লুঠের প্রতিবাদে এই সভা হওয়ার কথা ছিল ১৪ জুলাই। কিন্তু সেবছর ১২ জুলাই প্রাক্তন রাজ্যপাল নুরুল হাসানের মৃত্যুর জন্য কর্মসূচী নেওয়া হয় ২১ জুলাই। সেই থেকে এই দিনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই সভা আয়োজিত হয়ে আসছে।

২১ শে জুলাই এর অমর শহিদদের পূণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত যে কোনও স্মৃতি তর্পণই শেষ পর্যন্ত অসম্পূর্ন থেকে যায় কারন রাজনৈতিক আন্দোলনে সামিল হয়ে এতজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যু বরণ একসাথে একদিনে তাও আবার প্রশাসনের হাতে। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের ইতিহাসে যা বিরল ঘটনা।

আরও পড়ুন: রাজনীতিতে রাহুল রসিকতা ফেরালেন বলেই মত বঙ্গ কংগ্রেস নেতাদের

Advertisement
-----