শিব-কৃষ্ণের পুজোর সঙ্গে ৩৩ বছর ধরে নমাজও পড়েন তপনবাবু

স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: উৎসব কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম মানে না৷ ধর্মের গণ্ডী ছাড়িয়ে এই উৎসবই হয়ে ওঠে সর্বজনীন৷ কেন না ধর্মের প্রকৃত অর্থ তো ধারণ করা৷ অন্যদিকে যা ধারণ করা যায় সেটাই তো মানুষের ধর্ম হয়ে ওঠে৷ এই বিশ্বাসেই প্রতি বছর ইদের দিন নমাজ পড়েন খড়দহের পাতুলিয়া শিবমন্দির এলাকার তপন কর৷

গত দু’বছর ধরে তো তপনবাবুর ছোট্ট ছেলেও শামিল হয় বাবার সঙ্গে৷ তপনবাবু চান, সর্বধর্মসমন্বয়ের বীজটাই ছোট্ট ছেলের মধ্যে গেঁথে দিতে৷ ইদ শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের মানুষের উৎসব, তেমনটা মনে করেন না তপনবাবু৷ তাঁর কাছে ইদ হল মিলন উৎসব৷ উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহ পাতুলিয়া শিব মন্দির এলাকার বাসিন্দা তপন কর পেশায় বেসরকারি সংস্থার কর্মী৷

তপনবাবু যেমন বাড়িতে শিব পুজো, শ্রীকৃষ্ণের পুজো করেন৷ তেমনই ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি প্রতি বছর ইদ-উল-ফিতরের দিন নমাজ পাঠ করেন৷ শামিল হন উৎসবে৷ টিটাগড় বাংলা মসজিদের সামনেই নমাজ পড়েন তিনি৷

- Advertisement -

এ বছর তপনবাবুর সঙ্গে দেখা গেল তাঁর দু’বছরের ছেলে তৌরিককেও৷ বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র সে৷ তপনবাবু জানান, গত দু’বছর ধরে তার সঙ্গে নমাজে যোগ দেয় তার একমাত্র ছেলে তৌরিকও৷ তপনবাবু জানান, ‘‘১৯৮৬ সালে তখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র৷ দেখতাম আমার স্কুলের মুসলিম বন্ধুরা তাদের বাবাদের সঙ্গে নমাজ পাঠ করতে যেত ইদের দিন সকালে৷ সেই দেখে আমিও বন্ধুদের সঙ্গে ইদের নমাজে সামিল হতে শুরু করলাম৷ আজ ৩৩ বছর হয়ে গিয়েছে৷ এখনও সেই অভ্যাস অটুট রয়ে গিয়েছে৷’’

তপনবাবুর কথায়, ‘‘আমার মুসলিম বন্ধুরা তো দুর্গাপুজোয় সামিল হয়৷ উৎসব সর্বজনীন৷ সবাই একসঙ্গে পুজোর আনন্দে যেমন শামিল হই৷ ইদেও একইভাবে আনন্দ করি৷ আমরা সবাই মানুষ৷ সবথেকে বড় ধর্ম মনুষ্য ধর্ম৷ সবার প্রথম আমি মানুষ৷ আমি ধর্মে ভেদাভেদ চাই না৷ তাই নমাজও পড়ি৷’’

Advertisement
-----