সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্যে বাড়ি ছাড়তে হল রেল কর্মীকে

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্যে নিজের বাড়ি ছাড়তে হল এক রেল কর্মীকে৷ বাড়ির চাবি তুলে দিল জেলা প্রশাসনের হাতে৷ ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে৷

আলিপুরদুয়ারের রেল দফতরের কর্মী শম্ভু চক্রবর্তীর অভিযোগ, সমাজ বিরোধীদের দৌরাত্মের ঘটনা তিনি বহুবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন৷ কিন্তু পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি৷ তাই তিনি বাধ্য হয়ে জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ জানান৷ তাই তিনি বাধ্য হয়ে জেলা শাসকের নির্দেশে বাড়ি ছেড়ে চলে যান৷ এদিন পুলিশের উপস্থিতিতে বাড়ির আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়ে যান তিনি৷

- Advertisement -

তিনি জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে জলপাইগুড়ি ৭ নং ওয়ার্ডের অজিত কুমার চক্রবর্তী সরণীতে তিনি একটি বাড়ি কেনেন। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে জলপাইগুড়ির বাড়িতেই বসবাস করতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই কারণে বাড়ি কিনে তাঁর সুবিধা মত বাড়িটিকে নিজের মত করে সাজাতে চেয়েছিলেন তিনি। কাঠ কিনে বাড়িতেই আসবাবপত্র তৈরি করেছিলেন তিনি৷ ছুটিতে বাড়িতে এলেই দেখেন তার বাড়ি ঘর ভাঙা, ঘরের দরজা ভাঙা, সামনের গ্রীল চুরি করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ২০১৪ সাল থেকেই এমন ঘটনা চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। এমনকি ২০১৪ সাল থেকে জলপাইগুড়ি কোতয়ালিতে অভিযোগ করার পরেও দুষ্কৃতীরা ধরা পরেনি বলেও তিনি জানান৷

তিনি বলেন, ‘আমি থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়েই আমি হোম সেক্রেটারিকে অভিযোগ করি। জেলাশাসককেও অভিযোগ করি৷ আমার বাড়ির নিরাপত্তা ও দুস্কৃতীদের ধরার জন্য। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। এই বাড়িতে তালা মেরে সরকারকেই চাবি দিয়ে যেতেই চাই। যাতে সরকার আমাকে ন্যায্য মূল্যে বাড়িটি বিক্রি করে দিতে সাহায্য করে।’

শম্ভু চক্রবর্তীর স্ত্রী স্নিগ্ধা চক্রবর্তী বলেন, ‘বাঙালি হয়েও বাংলায় থাকতে পারছি না। আমাদের বাড়ি ঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে অভিযোগ করার পরেও কোনও সাহায্য পাইনি৷ বাড়ি বানিয়ে আজ আমাদের পালিয়ে যেতে হচ্ছে।’ যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

Advertisement
----
-----