তিলোত্তমায় অটলজির আবাসস্থল এখন স্টোররুম

শেখর দুবে, কলকাতা: ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী৷ এই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কলকাতার বাড়িতে একটি ঘরে অটলজি বসতেন৷ শ্যামাপ্রসাদের আপ্তসহায়ক হিসেবে ওই ঘরে বসে কাজকর্ম করতেন বাজপেয়ী৷

যদুবাবু বাজারে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির দোতলার যে ঘরে বসে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন সেই ঘরটিই এখন কার্যত স্টোররুমে পরিণত হয়েছে৷ সেখানে এখন পুরনো প্লাকার্ড, ভাঙা চেয়ার-টেবিল এবং সমস্ত অকেজো জিনিস জায়গা পেয়েছে৷

- Advertisement -

১৯৫৩ সালের ১০ মে দিল্লি থেকে ট্রেনে পাঠানকোটের দিকে রওনা দেন শ্যামাপ্রসাদ, সঙ্গী হিসেবে ছিলেন তাঁর প্রিয় শিষ্য অটল৷ ১১ মে তিনি জম্মু-কাশ্মীরে প্রবেশ করতেই শেখ আবদুল্লার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে৷ নেহরু সরকারের কাশ্মীরনীতির বিরোধিতা করে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে কাশ্মীরেও প্রবেশ করতে যান অটলজি৷ কিন্তু শ্যামাপ্রসাদের নির্দেশ, ‘‘বাজপেয়ী তুমি ফিরে যাও, গিয়ে দেশবাসীকে বলো, আমি বিনা পারমিশনেই জম্মু কাশ্মীরে প্রবেশ করেছি৷’’ শুনে অটলজি ফিরে আসেন৷

আরও পড়ুন:কেরলে আটকে পড়া শ্রমিকদের ফেরাতে উদ্যোগী মমতা

এরপর যমুনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে৷ ১৯৭৭ সালে মোরারজী দেশাই-এর জনতা দলের সরকারে বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন অটলবিহারী বাজপেয়ী৷ ১৯৯৬ প্রথমবার ১৩ দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন বাজপেয়ী৷ পরে ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সালে আবার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে ফেরেন তিনি৷ ১৯৯৯ সালে এনডিএ-র সরকারে তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন অটলবিহারী বাজপেয়ী, ২০০৪ সালে যা পাঁচ বছর পূর্ণ করে৷ সেইবছর আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি এনডিএ জোট৷

আরও পড়ুন:কলকাতায় বিজেপি দফতরে অটলকে শ্রদ্ধা

২০০৫ সালে রাজনীতি থেকে অবসর নেন বিজেপির বিকাশপুরুষ৷ ২০১৫ সালে ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার ভারতরত্নে ভূষিত করা হয় অটলজিকে৷ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫.০৫ মিনিটে দিল্লির এইমসে ৯৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী৷

ভারতের এক কৃতী সন্তানের একসময়ের কার্যালয় এখন স্টোররুমে পরিণত হয়েছে৷ শ্যামাপ্রসাদের নিজের বাড়িতে তাঁর প্রিয় শিষ্য তথা ভারতরত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্মৃতিটুকু যত্ন করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি কোনও পক্ষ৷ অটলজিকে শেষশয্যায় দেখতে দিল্লি গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু খোদ কলকাতায় তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে কোন পদক্ষেপ নেয়নি রাজ্য সরকার৷ এ ব্যাপারে উদাসীন অটলজির দল বাংলা বিজেপিও৷

আরও পড়ুন:মেয়র-পত্নী রত্নার আয়-ব্যয়ের হিসেব নিয়ে সংশয় প্রকাশ ইডির

Advertisement
---