তৃণমূলের মূল ছেদে তৎপর মুকুল

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: ওস্তাদের মার শেষ রাতে!

বহুল ব্যবহারে জীর্ণ এই প্রবাদ বাক্যকেই বাস্তবে রূপ দিতে মরিয়া তিনি৷ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতি মুহুর্তে যোগাযোগ রাখছেন৷ প্রাক্তন দলের সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য জানছেন৷ আর সব শেষে টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে মুচকি হেসে অনুগতদের স্নেহের সুরে বলছেন, ‘‘দলে থাকো৷ সক্রিয়ভাবে দলের কাজ করে যাও৷ সঠিক সময়ে আমি ডেকে নেব৷’’

তিনি মুকুল রায়৷ তৃণমূলের প্রাক্তন ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’৷ সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষেই বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে তাঁর৷ ঘনিষ্ট মহলে মুকুল রায় জানাচ্ছেন, ‘‘এখনই দল ভাঙালে সমস্যা আছে৷ রাজ্যের পুলিশ, সিআইডি দিয়ে প্রতিহিংসার চেষ্টা হতে পারে৷ বরং সবাই যেমন দলে রয়েছে, দলেই থাকুক৷ পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার মুখে বড়সড় ধাক্কা আনব৷ তখন নির্বাচন কমিশন থাকবে৷ ফলে রাজ্য পুলিশ কিংবা সিআইডি যা খুশি করতে পারবে না৷’’

- Advertisement -

কথা হচ্ছিল জঙ্গল মহলের ‘গড়’ ঝাড়গ্রামের এক তৃণমূল নেতার সঙ্গে৷ নাম প্রকাশ করব না এই শর্তে সরাসরি বললেন, ‘‘ক্ষমতায় বসার পর দিদিমণি ধরাকে সড়া জ্ঞান করছেন৷ আমরা প্রথম দিন থেকে তৃণমূল করলাম৷ সিপিএমের হাতে মার খেলাম৷ অত্যাচার সহ্য করলাম৷ অথচ এখন আমরাই ব্রাত্য৷ এত অপমান নিয়ে দলে থাকা সম্ভব নয়৷’’

ওই নেতার সংযোজন, ‘‘ইচ্ছে করছে এখনই দল ছেড়ে দিতে৷ কিন্তু দাদা বারণ করেছেন৷ কারণ, এখন দল ছাড়লে পুলিশ দিয়ে আইনি ঝামেলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে৷ কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর দল ছাড়লে তখন নির্বাচন কমিশন থাকবে৷ চাইলেও যা খুশি করতে পারবে না তৃণমূল৷’’ ওই নেতার দাবি, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া থেকে অন্তত ২ লক্ষ নেতা, কর্মী সমর্থক তৃণমূল ছেড়ে মুকুল রায়ের পথ অনুসরণ করবেন৷

কালী পুজোর পর থেকে রাজধানী দিল্লিতেই ঘাঁটি গেড়েছেন মুকুল রায়৷ সূত্রের খবর, রাজ্য থেকে তৃণমূলকে উৎখাত করতে দফায় দফায় বিজেপি নেতৃত্বর সঙ্গে আলোচনাও করছেন তিনি৷ সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষেই গেরুয়া নামাবলী গায়ে চড়াবেন তিনি৷ কলকাতা নয়, দিল্লি থেকেই বিজেপিতে আত্মপ্রকাশ ঘটবে তাঁর৷

ঘনিষ্ট মহলে মুকুল রায় জানাচ্ছেন, ‘‘কলকাতা সহ রাজ্যের ২৩ টি জেলাতেই তাঁর অনুগামীর সংখ্যা অসংখ্য৷ তাংদের সিংহভাগই নেত্রীর ভূমিকায় তিতিবিরক্ত৷ যারা প্রথম দিন থেকে দল করল, তাঁরাই এখন ব্রাত্য হয়ে গেছে৷ স্বাভাবিকভাবে তৃণমূলে ভাঙন ধরানো আমার কাছে মামুলি ব্যাপার৷’’ তবে পুলিশ দিয়ে অত্যাচার করা হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে এখনই কাউকে দল ছাড়তে নিষেধ করছেন স্বয়ং মুকুল রায়৷ বলছেন, ‘‘সঠিক সময়ে জানিয়ে দেব৷’’

স্বাভাবিকভাবেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে রাজ্যের শাসকদলে বড়সড় ধস নামতে চলেছে বলেই দাবি মুকুল শিবিরের৷ যদিও বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির৷

Advertisement ---
-----