গেরুয়া ঝড় রুখতে ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ই ভরসা শাসকের

সুমন বটব্যাল ও সৌমেন শীল: তিনি আপাদমস্তক রাজনীতিক৷ তবে এলাকা থেকে বিরোধীদের উৎখাত করতে এখন তিনি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও দিচ্ছেন৷ কারও অভিযোগ নয়৷ ঘাটালের তৃণমূল বিধায়ক শঙ্কর দোলুই নিজেই একথা বলেছেন সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এক বুথ নেতাকে৷

ইতিমধ্যে কয়েক মিনিটের ওই অডিওবার্তা হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় জেলা তো বটেই রাজ্যজুড়েই আলোড়ন তৈরি হয়েছে৷ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে- ‘বদলা নয়, বদল চাই’- প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাঁরা রাজ্য থেকে লাল-উৎখাত করেছিল, এটাই কি তার নমুনা?

শাসকদলের বিধায়কের বিরুদ্ধে যাঁকে ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই জগন্নাথ কারক ক’দিন আগেও তৃণমূলে ছিলেন৷ এখন জার্সি বদলে তিনি গেরুয়া৷ টেলিফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ভয়ার্ত কন্ঠে বললেন, ‘‘বিধায়ক ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন৷ বাড়িতে লোক পাঠিয়ে হামলা করছে৷ অথচ পুলিশ কোনও অভিযোগই নিচ্ছে না৷’’

- Advertisement -

বিষয়টি তিনি জানিয়েছেন বিজেপির জেলা নেতৃত্বকেও৷ বিজেপির জেলা নেতা শুভজিৎ রায় বলেন, ‘‘বাংলা জুড়ে তৃণমূলে ধস নেমেছে৷ দলে দলে মানুষ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন৷ তাই সিপিএমের কায়দায় সন্ত্রাসের পরিবেশ কায়েম করে তৃণমূল ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে৷’’ পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে অভিযুক্ত বিধায়কের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি৷

ছাত্র পরিষদ, সিপিএম ঘুরে তৃণমূলে যোগ দেওয়া দাপুটে বিধায়ক শঙ্কর দোলুই অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘আমার কথাকে বিকৃত করা হচ্ছে৷ রাজনৈতিক আক্রোশের কি আছে? জগন্নাথ আমার নিজের লোক!’’ যদিও পরক্ষণেই বিধায়কের অভিযোগ, ‘‘জগন্নাথ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই এসব করছে৷ ও নানা কুকর্মের সঙ্গে যুক্ত৷’’ বিধায়কের পরস্পর বিরোধী মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷

এবার একঝলকে দেখে নেওয়া যাক- হোয়াটসঅ্যাপে ভাইরাল হওয়া বিধায়কের ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ দেওয়ার অডিও-বার্তা:
শঙ্কর দোলুই (শাসকদলের ঘাটালের বিধায়ক): জগা বলছ? আমি শঙ্কর দোলুই বলছি। তুমি বিজেপির বুথ না অঞ্চল, কী যেন সভাপতি হয়েছ বলে শুনছি!
জগন্নাথ : কে বলল আপনাকে ?
বিধায়ক: তুমি মিছিলে হেঁটেছ ?
জগন্নাথ: বিজেপি করছি তো কী হয়েছে?
বিধায়ক (বেশ রেগে): তোমাকে আমি ভাল কথা বলে দিচ্ছি৷ বিজেপি করতে গেলে তোমাকে আমরা ডাকব। সেখানে তোমাকে কিছু কৈফিয়ত চাইব৷ বিজেপি মানুষের জন্য কী করেছে এবং আমরা মানুষের জন্য কী করেছি। এটার উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরি থাকো।
জগন্নাথ: কে কী দল করবে, সেটা তার ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয়। আপনি জোর করতে পারেন না।
বিধায়ক (এবার ভীষণ রেগে গিয়ে) তাই নাকি ?
জগন্নাথ : আপনি আগে কী পার্টি করতেন ?
বিধায়ক: আমি আগে কংগ্রেস করতাম।
জগন্নাথ : কেন আপনি আগে সিপিএম করেননি!
বিধায়ক (এবার আরও রেগে গিয়ে চিৎকার করে বলেন): তাই নাকি। তোমাকে এখুনি দেখাচ্ছি।
জগন্নাথ (শান্ত গলায়): কী করবেন?
বিধায়ক : তোমাকে ওষুধ দিচ্ছি। অ্যান্টিবায়োটিক।

ভাইরাল হওয়া এই অডিওবার্তাকে ঘিরে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল৷ প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে গেরুয়া ঝড় রুখে মসনদ নিজেদের দখলে রাখতে তবে কি রাজনৈতিক ‘অ্যান্টিবায়োটিক’-কেই হাতিয়ার করতে হচ্ছে শাসক শিবিরকে৷ শাসকদলের পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা নেই৷ খোঁজ নিয়ে দেখব৷’’ জেলা পুলিশের কোনও কর্তা অবশ্য এবিষয়ে মন্তব্যই করতে চাননি৷

এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি-র নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস গুণ্ডাদের দল। যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদের থেকে এর বেশি আর কী আশা করা যায়?”

Advertisement
-----