শিশুমৃত্যুর হার কমাতে রাজ্যের স্থান দ্বিতীয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কলকাতা: রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে এনে নজির গড়ল রাজ্য সরকার৷ শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে এনে রাজ্য এবার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে৷ একটি রিপোর্ট পেশ করে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার ক্রমশ কমছে। বিধানসভায় বিধায়ক অসিত মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গত সাত বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে শিশুমৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে৷

বিধানসভায় নয়া রিপোর্ট পেশ করে এদিন জানানো হয়, ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৩। বর্তমানে তা কমে হয়েছে ২৬। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৬৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯২ শতাংশ। এছাড়াও ৩০৭টি সিক নিউ বর্ন স্টেবিলাইজেশন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। যা ২০১১ সালের আগে একটিও ছিল না।

সিক নিউ বর্ন কেয়ার ইউনিট ছ’টি থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৭টি। মা ও নবজাতকের জন্য ওয়েটিং হাব তৈরি করা হয়েছে। ১৬টি মাদার চাইল্ড হাব তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে। আর এক বিধায়কের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘৫৬১টি হাসপাতালে শিশু চিকিৎসা হয়। কিন্তু শুধুমাত্র শিশুদের চিকিৎসার জন্য রয়েছে বিসি রায় হাসপাতাল।’’

- Advertisement -

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির ওপর জোর দিয়েছি। যখন ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন ৬৫ শতাংশ ছিল, এখন তা বেড়ে ৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে এখনও কিছু কিছু জায়গায় বাড়িতে দাইরা প্রসবের কাজ করায়। আমরা ১০০ শতাশ ইন্সটিটিউশনাল ডেলিভারির ব্যবস্থা করব। শুধু তাই নয়, সমস্ত সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যে নেই। মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের সুযোগ–সুবিধা পান তা আমরা প্রতিনিয়ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’’

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে রাজ্যে প্রতি এক হাজার প্রসবে ৩৪ জন শিশুর মৃত্যু হত। শিশুমৃত্যুর হার ছিল ৩৪। বর্তমানে তা কমে কমে হয়েছে ২৬। এই হার কমার দিক থেকে গোটা দেশে কাশ্মীরের পরের স্থানই দখল করেছে বাংলা। এ প্রসঙ্গে রবিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের শিশুমৃত্যু প্রতিরোধে গঠিত টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান ডাঃ ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু ঠেকাতে এসএনএসইউ, এসএনসিইউ, মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবসহ অজস্র প্রকল্প চালু হয়েছে। এই সম্মান আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে উৎসর্গ করলাম।

Advertisement ---
---
-----