স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এক বছর কেটে গিয়েছে সেই আতঙ্কের ঘটনার৷ তবু এখনও দগদগে স্মৃতি রয়ে গিয়েছে ছোট্ট মেয়েটির মনে৷ আজও জিডি বিড়লা স্কুলের ৪ বছরের ছাত্রীর যৌন নির্যাতনের ঘটনা একবছর কেটে গেলেও স্কুলের গেট দেখলেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে সেই শিশু৷

একদিকে ছোট্ট মেয়েকে সামলানো, অন্যদিকে তার পড়াশুনার ব্যবস্থা করা৷ সব মিলিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন শিশুর পরিবার৷ নিম্ন আদালতে মামলার শুনানির কারণে অন্য কোনও স্কুলে ভরতি করানো যাচ্ছে না সেই শিশুকে৷ ফলে থমকে রয়েছে তার পড়াশুনা৷ সংকটে তার ভবিষ্যত৷ নিম্ন আদালতে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শিশুটির অভিভাবকরা।

সেই মামলাতেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়া। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়ার এজলাসে মামলার শুনানি চলাকালীন শিশুর পরিবারের পক্ষের আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা তেব্রিওয়াল আদালতে জানান ঘটনার এক বছর হতে চললেও স্কুলেই ঢুকতে পারছে না শিশুটি। আজও তাঁর চোখে মুখে আতঙ্ক রয়েছে। অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না৷

এদিন আইনজীবী অভিযোগ করেন শিশুটির ভবিষ্যত নষ্ট হতে বসেছে অথচ সবাই হাত গুটিয়ে বসে আছেন। এর পরই বিচারপতি স্কুল কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বার বার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে “বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও”৷ এতেও কি কারোর টনক নড়ছে না? কেন শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা হচ্ছে?

পড়ুন: স্কুল চলাকালীনই গণধর্ষণ জিডি বিড়লার ছাত্রীকে, চার্জশিটে জানাল পুলিশ

আদালত এদিন আরও জানায় শিশুটি যদি ওই স্কুলে যেতে ভয় পায় তাহলে কেন স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য স্কুলে ভরতি করছেন না। জিডি বিড়লা স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বসে সিদ্বান্ত নিতে হবে এই ইস্যুতে৷ শিশুটিকে কোন স্কুলে ভরতি করা যায়, তা জানাতে হবে দ্রুত৷ তা না হলে কোন স্কুলে ভরতি করতে হবে ওই শিশুটিকে এবং তার ভরতির বিষয়ে সমস্ত দায়িত্ব নিতে হবে জিডি বিড়লা স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলে জানিয়েছে আদালত৷

জিডি বিড়লা স্কুলে ছাত্রীদের কি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে তা আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুল কর্তৃপক্ষকে হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ পাশপাশি পরবর্তী শুনানিতে তাঁদের জানাতে হবে শিশুটির বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিয়েছে৷ বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়া দ্রুত এই মামলার শুনানির পক্ষেও এদিন সওয়াল করেন৷

----
--