মাধ্যমিকে দশম স্থানে বীরভূমের লটারি বিক্রেতার ছেলে

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের দিন বোধহয় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে লটারি বিক্রেতা পরিমল রায়ের কাছে৷ এদিনও নিয়ম করে লটারি বিক্রি করে বাড়ি ফিরছেন পরিমলবাবু৷ সবে মাত্র ভীমগড় থেকে সাঁইথিয়া-অন্ডাল লোকাল ট্রেনে উঠেছিলেন তিনি৷ কিন্তু ট্রেনে উঠেই একটা ফোনই পাল্টে দেয় পরিমলবাবুর চেহারা৷

ছেলের বন্ধু ফোন করে জানায় তাঁর ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় দশম স্থান অধিকার করেছে৷ আর এই খবর পেতেই আনন্দ অশ্রু আর ধরে রাখতে পারেনি পরিমলবাবু৷ ট্রেন ভরতি লোকের সামনেই হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি৷ বীরভূম বি.কে.টি.পি.পি প্রবীর সেনগুপ্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র শুভম রায়। মাধ্যমিক পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮০। এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছে সে। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায় বীরভূমের শুভম।

এই সুখবর ছড়াতে না ছড়াতেই শুভমের বাড়িতে হাজির একঝাঁক মিডিয়া৷ তার সাক্ষাতকার নিতে গিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয় এরপর তার লক্ষ্য কি৷ তাতে শুভম জানায়, সে বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়৷ গরিব মানুষদের সেবা করতে চায়। কারণ ছোট থেকেই অভাব অনটনের সংসারে বড় হয়ে উঠেছে সে৷ কাছ থেকে দেখেছে সমাজের কঠিন বাস্তবকে৷

- Advertisement -

উল্লেখ্য, শুভমের বাবা পরিমলবাবু পেশায় টিকিট বিক্রেতা। আর এই পেশার উপর নির্ভর করেই শুভমের পড়াশোনা খরচ থেকে সংসার যাবতীয় খরচ চালাতেন তিনি। ছেলের রেজাল্ট নিয়ে পরিমল বাবু জানান, ছেলের বন্ধুদের কাছ থেকে খবর শোনার পর চোখে জল এসে যায়। আনন্দের চোখের জলের যে এত আনন্দ তা তিনি এদিন অনুভব করলেন।

পাশাপাশি তিনি এ-ও জানিয়েছেন, কখনও কখনও বেশ ভয় হতো তাদের৷ ছেলে যে স্বপ্ন দেখছে সেই স্বপ্ন যদি বাস্তবায়িত না হয় তাহলে তাদের ছেলে যে কষ্ট পাবে সে কষ্টের না আছে ভাগ না আছে সহ্যের ক্ষমতা৷ যদিও ছেলেকে বড় স্বপ্ন না দেখতে বলার পিছনে রয়েছে অন্য কারণ৷ পরিমলবাবু জানিয়েছেন, আর্থিক অবস্থা এমন একটা বিষয় যেখানে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও হাত-পা বাধা থাকে। এখন জানিনা ওর ভাগ্য ওকে কোনদিকে নিয়ে যাবে।

এদিন জেলার তিন কৃতী ছাত্রকে জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী সম্বর্ধনা দিয়ে আসেন। সিউড়ি থানার পক্ষ থেকেও তাদেরকে এদিন সম্বর্ধনা জানানো হয়। এখন উচ্চ-মাধ্যমিকে আরও ভাল স্কুলে, আরও ভাল পরিকাঠামোয় ভরতির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিমলবাবু৷

Advertisement
---