স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দ্বিতীয়বার ফের শুরু হল বালুরঘাট থেকে হিলি রেলের জমি জরিপের কাজ৷

আট বছর আগে বালুরঘাট থেকে হিলি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য শিলান্যাস করা হলেও প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি৷ প্রথম ধাপে ২৫৬ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দও হয়েছিল৷ সেই টাকায় জমি জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ৷ সেই সঙ্গে বালুরঘাট থেকে হিলি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি নদীর উপর ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হয়েও বর্তমানে অর্ধনির্মিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বেশ কয়েকবার এব্যাপারে ডেপুটেশন দেওয়া হলেও মাঝে বহু বছর রেলের তরফে কোনও সারাই পাওয়া যায়নি৷

সম্প্রতি এলাকার বিধায়ক সাংসদ ও বিভিন্ন সংগঠনের তরফে পুনরায় কাজ শুরুর দাবি উঠলে গত আর্থিক বছরে ফের আড়াইশো কোটি টাকা বরাদ্দ করে রেলমন্ত্রক৷ অর্থ বরাদ্দ হলেও জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেই টাকা ফেরত চলে যাওয়ার আশংকার সৃষ্টি হয়েছিল৷

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপ্রশাসনিক ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জমি জরিপের কাজ ফের শুরু হয়ে গিয়েছে। বালুরঘাট-হিলি রেল সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে রেল ও জেলা-প্রশাসন মিলিয়ে মোট সতের জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার (কন্ট্রাকশন) সঞ্জীব রায়ের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার বালুরঘাট ও হিলির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন ও জমি জরিপের কাজও খতিয়ে দেখেন কমিটির লোকেরা৷

দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক শরদ দ্বিবেদী জানিয়েছেন যে বালুরঘাট-হিলি রেলপথ সম্প্রসারণের কাজের জন্য জমি জরিপের প্রক্রিয়া ফের চালু করা হয়েছে৷ বছর কয়েক আগে জমি অধিগ্রহণের নোটিফিকেশন হয়ে থাকলেও তার মেয়াদ বহুদিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে৷ যেকারণে নতুন করে জরিপের কাজ চালু করা হয়েছে বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন৷

এব্যাপারে বালুরঘাট একলাখী রেল সুরক্ষা ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক কালিপদ বসু জানিয়েছেন যে ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বালুরঘাট থেকে হিলি পর্যন্ত রেল সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। আড়াইশ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করে শুরু হয়েছিল কাজ। দীর্ঘ ২৯কিলোমিটার এই রেলপথের জন্য জমি চিহ্নিত করণের পাশাপাশি আত্রেয়ী ও যমুনা নদীর উপর শুরু হয়েছিল ব্রিজ তৈরির কাজও।

দিল্লির মসনদে ক্ষমতার বদল হতেই বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। এব্যাপারে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৭ সালে ফের আড়াইশ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে বৃহস্পতিবার জেনারেল ম্যানেজার(কনস্ট্রাকশন)’র সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে স্মারকলিপিও তুলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন৷

--
----
--