‘‘পুলিশের প্যান্ট খুললে মিলবে তৃণমূলের ঝাণ্ডা’’ : মহম্মদ সেলিম

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: দলীয় নেতার স্মরণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বভাবসিদ্ধভাবেই শাসকদলকে বিঁধলেন মহম্মদ সেলিম৷ শনিবার কোচবিহারে বামেরা একটি সভার আয়োজন করেছিল৷ মেখলিগঞ্জের জামাদহে নিহত কমরেড রমজান মিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল৷ সেখানেই সেলিম তোপ দাগেন পুলিশকে৷

এদিনের সভায় সেলিম বলেন, ‘‘রমজান মাসে রমজান মিয়ার খুনিদের ধরা হয়নি এখনও৷ কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর নেই কোথাও৷ এদিকে পুলিশের প্যান্ট খুলে আন্ডার প্যান্টে মিলবে তৃণমূলের ঝান্ডা৷’’ শনিবার মেখলিগঞ্জের জামাদহে খুন হওয়া কমরেড রমজান মিয়ার বাড়িতে যান বামফ্রন্টের নেতৃত্ব সেলিম৷ সেখানেই তিনি এই তোপ দাগেন৷ একই সঙ্গে আসেন সুজন চক্রবর্তী, জীবেশ সরকার, প্রদীপ নাথ, অনন্ত রায় প্রমুখ নেতারা৷ অন্যদিকে, নিহত রমজানের কবর পরিদর্শন করেন মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, প্রদীপ নাথ, জীবেশ সরকার মত প্রথম সারির নেতারা৷

এদিন, মৃত রমজানের পরিবারের হাতে নগদ কুড়ি হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়৷ এই টাকা রমজানের পরিবারকে তুলে দেওয়া হয় কোচবিহার জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে৷ অন্যান্য আহতদের চিকিৎসা করার জন্যও দেওয়া হয় নগদ টাকা৷

- Advertisement -

উল্লেখ্য, মেখলিগঞ্জের জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের হরির বাড়ি এলাকায় গত ৩ জুন তৃণমূল-সিপিআইএম সংঘর্ষে খুন হতে হয় রমজান মিয়া নামে এক সিপিআইএম কর্মীকে৷ অভিযোগ তাঁকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে খুন করেন তৃণমূল কর্মীরা৷ এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয় স্থানীয় থানায়৷

ঘটনার পর এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও অভিযোগ পুলিশ চুপ করে বসে রয়েছে৷ পাশাপাশি বলা হয়, সব অভিযুক্তই তৃণমূলের দুষ্কৃতী৷ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না৷ পাল্টা সিপিআইএম কর্মীদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ৷ এমনই অভিযোগ করেন মহম্মদ সেলিম এবং সুজন চক্রবর্তী৷

শনিবার রমজানের বাড়িতে এসে তাঁরা ঘুরে দেখেন গোটা গ্রাম৷ রমজানের পরিবারের হাতে তুলে দেন কুড়ি হাজার টাকা৷ শুধু তাই নয়, বেশ কয়েক দিন ধরে কড়া পুলিশি টহল চলছে জামালদহের হরির বাড়ি এলাকায়৷ এদিনও তার অন্যথা হয়নি৷ নিরাপত্তায় ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ এদিন একটি মঞ্চে বক্তব্য রাখেন সেলিম, সুজন-সহ বিভিন্ন বাম নেতা৷ সভার পর একটি শোকমিছিল করে আহত ব্যক্তিদের বাড়িতে যান নেতারা৷ এদিন বামেদের কর্মসূচিতে অংশ নেন নিহতের গ্রামের লোকজনও৷

Advertisement
---