ব্যবসা বন্ধের ঘোষণায় চিন্তায় মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: জেলার অন্যতম ব্যস্ত জায়গা ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক হাসপাতাল মোড়। সেই এলাকাকে যানজট মুক্ত করতে প্রায় ৯ মাস আগে উদ্যোগ নিয়েছিল জেলা প্রশাসন৷

তবে সমস্যা ওই রাস্তার দু’ধারে ছিল সারি সারি দোকান৷ আর সেই উদ্যোগে রাস্তার দু’পাশ থেকে ‘উচ্ছেদ অভিযান’-এ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল খুচরো থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দোকানগুলি।

আরও পড়ুন: দলিত যুবককে বেধে পিটিয়ে খুন, ভাইরাল ভিডিও

- Advertisement -

তবে বর্তমানে উচ্ছেদ অভিযানের ৯ মাস কেটে গেলেও ব্যবসায়ীদের স্থায়ী ঠিকানা এখনও মেলেনি। তাই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে এলাকার কয়েকশো ব্যবসায়ী।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের পর স্থায়ী ঠিকানা না মেলা পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা শুরু করেছিলেন সুকুমার কর, নীলরতন জানা, রঞ্জিত বেরার মতো বেশ কিছু ব্যবসায়ী। কিন্তু গত শনি ও রবি দু’দিন ধরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার করে জানানো হয়েছে ২২ মে-র মধ্যে অস্থায়ী সমস্ত ব্যবসায়ীদের উঠে যেতে হবে।

তবে এখনও ব্যবসার কোনও স্থায়ী ঠিকানা না পাওয়ায় বেশ চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ৷ যদিও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তমলুক হাসপাতাল মোড়ে একটি অস্থায়ী মার্কেট তৈরি করা হয়েছে। সেই মার্কেটের মাত্র ৮৮টি স্টল ব্যবসায়ীদের দেওয়া হলেও সিংহভাগ ব্যবসায়ী সেই স্টল পাইনি বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: বধূকে হত্যায় সুপারি কিলার লাগিয়েছিল স্বামী

তাই স্টল না পেয়ে ধ্বংসস্তুপের ওপর কোনও রকমে রুজিরুটির কারণে শত কষ্ট উপেক্ষা করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশের পর বর্তমানে মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের।

তমলুকের দক্ষিণচড়ার ব্যবসায়ী সুকুমার কর বলেন, ‘‘বিগত ৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছি। কাজ কর্ম না পাওয়ায় ব্যবসা করে পরিবারের মুখে অন্ন যোগানোর জন্য ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে আমাদের দোকান উচ্ছেদ করে দিয়েছে। যদিও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী স্টল দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনও সেই স্টল আমরা অনেকেই পাইনি। মঙ্গলবার থেকে পুরোপুরি ভাবে উঠে যাওয়ার ঘোষণা করেছে। সেই ঘোষণার পর থেকে চিন্তায় রয়েছি। জানি না আগামিদিনে কীভাবে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেব।’’

আরও পড়ুন: বিষাক্ত পোকার কামড়ে মৃত্যু এগরার যুবকের

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত ব্যবসায়ীদের হাতে তাদের স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হবে। তার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।

তবে রাস্তার কাজের জন্য যারা রাস্তার দু’ধারে দোকান পেতে বসেছেন তাদের উঠে যেতে হবে। ঠিক কবে ব্যবসায়ীরা তাদের স্থায়ী ঠিকানা হাতে পাবে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে এলাকার শয়ে শয়ে ব্যবসায়ী৷

আরও পড়ুন: এবার তৃণমূলের পাখির চোখ হাওড়া পুরসভার নির্বাচন

Advertisement ---
-----