গোপন ডেরায় সন্তানের জন্ম দিলেন পঞ্চায়েতে বিজেপির দুই জয়ী প্রার্থী

দেবময় ঘোষ, কলকাতা: রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁরা জয়ী হয়েছিলেন৷ কিন্তু রাজনৈতিক সন্ত্রাসের আশঙ্কায় অন্তসত্ত্বা অবস্থাতেও নিজের ভিটে-মাটি আকড়ে পড়ে থাকতে পারেননি৷ ঝাড়খণ্ডের কোনও এক গোপন ডেরায় এবছরের রক্তসিক্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী দুই বিজেপি প্রার্থী মা হলেন৷ যাবতীয় বাধা পেরিয়ে ভালো আছেন মা ও সদ্যজাতরা৷ যাঁরা ঘটনাটি জানেন, তাঁদের সকলের মুখেই এখন সেই পুরানো প্রবাদ, ‘‘রাখে হরি মারে কে ৷’’

পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই বিজেপির প্রায় আড়াই হাজার কর্মী বাংলা ছাড়া৷ খুন এবং অপহরণের আশঙ্কায় বাড়ি ছেড়ে তারা এখন বাংলার পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে আত্মগোপন করে রয়েছেন৷ কিন্তু তাঁরা সকলেই জয়ী৷ পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে তাঁদের৷

সেক্ষেত্রে রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ বোর্ড গঠনের আগে নিরাপত্তা দিয়ে ফেরত আনা হচ্ছে ওই প্রার্থীদের৷ তারপরই তাঁরা বোর্ড গঠনে অংশ নিচ্ছেন৷ এবছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪ শতাংশ (যা প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি) আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস৷ বাকি আসনে বোর্ড গঠন হলেও ওই আসলগুলিতে বোর্ড গঠন ঝুলেই ছিল৷ সর্বচ্চ আদালতের রায়ে অতি সম্প্রতি সেই আসনগুলিতে বোর্ড গঠন শুরু হয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবেই হানাহানি অব্যাহত৷

- Advertisement -

রাজ্য বিজেপি পর্যবেক্ষণ করেছে, সে সময় পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন হয়নি, সেই সময় তাঁদের জয়ী প্রাথীদের একাংশ নিজেদের বাড়িতে থাকলে মৃত্যু বা অপহরণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে৷ কেউ কেউ টাকার টোপ কিংবা হুমকি পেতে পারেন৷ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ওই প্রার্থীদের বাড়ি থেকে সরানোই মঙ্গল৷

রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, ‘‘পাশের বিহার, ঝাড়খন্ড, অসম সরকারের সহযোগিতায় ওই আড়াই হাজার জয়ী প্রার্থীকে বিভিন্ন গোপন ডেরায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷ প্রতিবেশি রাজ্যের সরকার তাঁদের দায়িত্ব নিয়ে রেখে দেয় ওই গোপন আস্তানায়৷ এমনই ঝাড়খন্ডের এক গোপন ডেরায় জন্ম হয় দুই সদ্যোজাতের৷’’

Advertisement
----
-----