দশাশ্বমেধ ঘাটে ফেলুদা নামের আগে চন্দ্রবিন্দু

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘মগনানন্দ আগচ্ছতি, ব্যোম ভোলেনাথ’।  জয়বাবা ফেলুনাথ খ্যাত সেই দৃশ্যটি মনে পড়ে? সেই দৃশ্যে মগনলাল মেঘরাজের বজরাটাকে তোপসে দূর থেকে আসতে দেখে সঙ্গী জটায়ুকে সতর্ক করতে ওই উক্তি। তা জানতেই বেনারসের দশাশ্বমেধ ঘাটে সাধু সেজে বসে থাকা জটায়ুও ঠিক প্রতিধ্বনির মতো একই কথাই বলেছিলেন।সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্ট গোয়েন্দা ফেলুদার অস্তিত্ব ওই ঘাটে ছড়িয়ে রয়েছে গল্প থেকে সিনেমায়। কিন্তু সেই ঘাটেই এখন যেন বার্তা দিচ্ছে ফেলুদার মৃত্যুর। কারণ ফেলুদার নামের পাশেই ওঁ লিখে দেওয়া হল একটি বেনারসী ছাতা এখন বিরাজমান ঘাটের সিড়িতে।

বেনারস শহরটি যে কোনও চিত্রনির্মাতা থেকে আলোকচিত্রীর কাছে অন্যতম আগ্রহের জায়গা৷ উত্তর ভারতের এই প্রাচীন শহর ও তার সংলগ্ন ঘাটের প্রতি  সত্যজিৎ রায়েরও ছিল এক অমোঘ আকর্ষণ। ফলে তিনি ‘অপরাজিত’ থেকে ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ ছবিতে কাশী আর দশাশ্বমেথ ঘাটকে ব্যবহার করেছেন তা কারও অজানা নয়৷ প্রায় সিকি শতাব্দী হতে চলল সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যু হয়েছে ৷ তবে তাঁর মৃত্যুর পরে নতুন করে ফেলুদার গল্প প্রকাশ না হলেও বাঙালির কাছে ফেলুদা ওরফে প্রদোষ মিত্র রয়ে গিয়েছেন৷ পরবর্তী কালে সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ রায়ও ফেলুদাকে নিয়ে কয়েকটি ছবি করেছেন৷ সময়ের তালে তালে রূপোলি পর্দায় ফেলুদা বদলে গিয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় থেকে কখনও শশী কাপুর কখনও সব্যসাচী চক্রবর্তী কখনও বা আবির চট্টোপাধ্যায়৷

- Advertisement -

কিন্তু দশাশ্বমেধ ঘাটেই হঠাৎ বেতের ছাতায়, ফেলুদার মৃত্যুর বার্তা কেমন ঘাবড়ে দিয়েছিল৷ছাতায় বড় বড় করে ফেলুদা নামের আগেই একটি চন্দ্রবিন্দু এঁকে দেওয়ায় ফেলুদা গতই হয়েছেন বুঝেছিলাম। পরে অবশ্য ছাতার কাছে গিয়ে ভাল করে লক্ষ্য করলে ভুল ভেঙেছে আর হাঁফ ছেড়েও বাঁচা গিয়েছে৷
ওই ফেলুদা গোয়েন্দা প্রদোষ মিত্র নন, তিনি ভিন্ন কোনও মানুষ৷ আসলে বেনারসের ঘাটে যারা পরিবারের মৃতদের শান্তি কামনায় পিণ্ড দান করেন তারা সবাই একটি করে ছাতা কিনে নেন। এবং পরলোক গমনকারীদের স্মৃতির উদ্দেশে ওই ছাতায় তাঁদের নাম লিখে রাখেন। এমনই এক ব্যক্তি হলেন শীতল চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ৷ ওই ব্যক্তি ও তার স্ত্রী  শ্রীমতি দীপ্তি  মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি রক্ষার্থে তাদের ছেলেরা অমন ওঁ ফেলুদা লেখা ছাতা রেখে গিয়েছেন এখন ঘাটে৷

# This is an exclusive story by our Kolkata 24×7 reporter. This story has its background laid on Bengali’s very own Feluda. This story is on umbrella defining Feluda’s background.

Advertisement ---
---
-----