শেখর দুবে, কলকাতা: শুক্রবার পঞ্চায়েত মামলার রায় বেরিয়েছে। শীর্ষ আদালতের রায়ে কার্যত ব্যাকফুটে বিজেপিসহ রাজ্যের বিরোধী শিবির। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ২০,০০০ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনে নতুন করে নির্বাচন হবে না। রাজ্য সরকার এই আসনগুলিতে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে।

এই রায় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা Kolkata24x7-কে বলেন, “আদালতের রায়ে আপাতত স্বস্তি পেয়ে আনন্দ শুরু করেছে তৃণমূল। আমি মনে করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হবে। ২০১৯ জনরায়ে আমরা তৃণমূলকে বাংলাছাড়া করব। গণতন্ত্রের হত্যাকারীদের মানুষ জবাব দেবেই।”

Advertisement

এই রায়কে কী নিজেদের পরাজয় বলে মেনে নিচ্ছে রাজ্য বিজেপি? কলকাতা২৪x৭-এর এই প্রশ্নের জবাবে রাহুল সিনহা বলেন, “পঞ্চায়েত ভোটে যে হেরাফেরি হয়েছে সেটা শীর্ষ আদালতের রায়ে স্পষ্ট। সুপ্রিমকোর্টের রায়ে কোথাও বলা হয়নি যে পঞ্চায়েতে হেরাফেরি হয়নি। আদালত যদি বলত কোনও হেরাফেরি হয়নি, পঞ্চায়েত ভোটে সব ঠিকঠাক আছে তাহলে হারের প্রশ্ন উঠত। আদালত কিন্তু ইনডিভিজুয়ালি ইলেকশন ট্রাইবুনালে কথা বলেছে। এতেই সব পরিষ্কার হয়ে যায়।”

শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিল পর্বে শাসক দলের সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীরা৷ শাসক দলের হিংসার কারণেই বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করতে পারচ্ছেন না, দাবি ছিল বিজেপি এবং সিপিএমের৷ ন্যায় বিচার চেয়ে বিরোধীরা আদালতের দারস্থ হয়৷ হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় ই–মেল কিংবা অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তা গ্রাহ্য করতে হবে৷ শুক্রবার রায় ঘোষণার সময় সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানান, ইমেল কিংবা অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কোনও আইন নির্বাচনী সংবিধানে নেই। ফলে ইমেল বা অনলাইনে দাখিল মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা যাবে না।

রাজনৈতিক মহলের মতে  সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রভাব ফেলবে বিজেপির ২০১৯ ভোটের মহড়ায়৷ শীর্ষআদালতের এই রায়কে নিজেদের পরাজয় হিসেবে স্বীকার না করলেও রাজ্য বিজেপির অন্যতম বড় মুখ রাহুল সিনহা বলন, ‘‘ আপনারা সবাই দেখেছেন পঞ্চায়েত ভোটে কী পরিমাণ সন্ত্রাস হয়েছে৷ প্রকাশ্যে এতবড় গণতন্ত্রের হত্যা, যার তথ্য আমরা আদালতকে দিয়েছিলাম৷ আমরা ভেবেছিলাম আদালত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করবে৷ তা না হওয়াতে ৩৪ শতাংশ ভোট কেন্দ্রের মানুষ অবশ্যই কিছুটা হতাশ হল৷’’

----
--