১৯ বছর আগে এরকম সময় কার্গিলের পাহাড় চূড়ায় চলছিল যুদ্ধ। শত্রু নিধনে আকাশ থেকে চালানো হয়েছিল হামলা। সাদা চাদরে মোড়া পাহাড়ে লেগেছিল বহু সৈন্যের রক্তের দাগ। প্রান দিয়ে দেশের মাতি রক্ষা করেছিলেন তাঁরা।

কার্গিল যুদ্ধের সেইসব নায়কদের কাহিনী হয়ত কখনই বলে শেষ করা যাবে না। তবে, অনেকেই হয়ত জানেন না কিভাবে মাত্র ৩০ জনের একটি দলকে নিয়ে কার্গিলের প্রথম জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ভারত। নেতৃত্বে ছিলেন মেজর সোনম ওয়াংচুক।

১৮০০০ ফুট উচ্চতার সেই শৃ্ঙ্গ শুধু নিজেদের দখলেই রাখেনি, সেইসঙ্গে পাকিস্তানে ঢোকার মূল দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনার এই জওয়ান। তাঁর এই যুদ্ধজয়ের জন্যই তাঁকে মহাবীর চক্র সম্মানে ভূষিত করা হয়। কীভাবে অদম্য সাহসে সেই যুদ্ধে শত্রুদের নিঃশেষ করেছিলেন তিনি, সেই কাহিনী এবার প্রকাশ করল ভারতীয় সেনা। ট্যুইটারে মেজর ওয়াংচুকএর সেই লড়াইয়ের কাহিনী তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

কী হয়েছিল সেদিন?

মে, ১৯৯৯। বছরে একবারই ছুটি মেলে। সেই ছুটিতেই বাড়ি গিয়েছিলেন লাদাখ স্কাউটের মেজর ওয়াংচুক। হঠাৎ খবর পান, তাঁকে যুদ্ধে যেতে হবে। সেই সময় তাঁর শহর লে-তে ছিলেন দলাই লামা। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান তাঁর কাছে, আশীর্বাদ চান। ছেলে রিগ্যালকে প্রমিস করে যান, ১১ মে তার জন্মদিনের আগেই তিনি ফিরে আসবেন। দু’দিন বাদে বাতালিকের বিএসএফ ক্যাম্পে হাজির হতে হয় তাঁকে। এলওসি-র আগে এটাই ‘লাস্ট স্টপ’। স্থানীয় ভাষা জানায়, এই এলাকায় নজরদারির দায়িত্ব পড়ত তাঁর উপরেই।

তখনও খবর ছিল না যে পাক সেনা ঠিক কতটা ভিতরে ঢুকে পড়েছে। ওই ১৮০০০ ফুট উচ্চতায় কত পাক সেনা রয়েছে, তাদের হাতে কি অস্ত্র আছে এসব কিছুই জানত না সেনাবাহিনী। বেশি দূর যেতে হয়নি। তার আগেই ভারতীয় সেনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক সেনা। আচমকা হামলা চালায় তারা। একাধিক সেনা জওয়ান শহিদ হন। মৃতদেহগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন জওয়ানকে রেখে যান ওয়াংচুক। বাকিদের নিয়ে এগিয়ে যান পাহাড়ের উপরে। একটা অবস্থানে পৌঁছে শত্রুপক্ষকে লক্ষ্য করে বোল্ডার ছুঁড়তে শুরু করেন ওয়াংচুক ও তাঁর টিম। তিন ঘণ্টার চেষ্টায় শৃঙ্গে পৌঁছতে পারে তারা।

শত্রুপক্ষ তখন নজরে চলে এসেছে। দলকে নির্দেশ দেন, ফায়ারিং রেঞ্জের মধ্যে আসার আগে যেন কেউ না এগোয়। এরপর তারা ফায়ারিং রেঞ্জে আসতেই শুরু হয় গুলির লড়াই। চারজনকে খতম করে ভারতীয় সেনা। এরপর লক্ষ্য হয়ে ওঠে চোরবত লা , এটাই ছিল শত্রুদের ঢোকার অন্যতম রাস্তা। ওয়াংচুক জানতেন তাঁর কাছে অস্ত্রবল নেই। আর সামনেই সীমান্ত, যা পেরোলেই পাক অধিকৃত কাশ্মীর। অত উচ্চতায় নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু সেসব নিয়ে ভাবেনি সেনা। আরও এগিয়ে যেতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত্রুদের খতম করে চোরবত লা আয়ত্তে নিয়ে আসেন মেজর ওয়াংচুক।

গোটা বিশ্বের সঙ্গে প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তখন। ছিল শুধু ওয়্যারলেস। তা সত্ত্বেও এক সপ্তাহ বিশহবের এই অন্যতম দুর্গম যুদ্ধক্ষেত্র থকে এক পা ও নড়েননি ওয়াংচুক। তবে এই জয় ছিল যুদ্ধের শুরু। কিন্তু ওই জয়ের জন্য যুদ্ধ তখন অনেকটাই চলে এসেছে ভারতে হাতে। যুদ্ধ শেষে মেজর ওয়াংচুককে মহাবীর চক্র সম্মান দেওয়া হয়।

----
--