জমা জল মারণ রোগ ছড়াচ্ছে গরুর শরীরে

ফাইল চিত্র৷

স্টাফ রিপোর্টার, মেদিনীপুর: বেশ কয়েকদিন ধরে গরু মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে৷ কারণ হিসাবে সামনে এসেছে সংক্রমণ ব্যাধির জের৷ ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং ব্লকের৷

গত ১০-১৫ দিন ধরে সবং-এর মোহাড়, বিষ্ণুপুর, ভেমুয়া অঞ্চলে পায়ে ও মুখে ঘা হয়ে প্রায় ১০০-র বেশি গরুর মৃত্যু হয়েছে। প্রথম প্রথম বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দেয়নি৷ কিন্তু একইরকম ভাবে চার পাঁচটি গরু শুধু বিষ্ণুপুরে মারা যাওয়ার পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে৷ পরে জানা যায়, আশেপাশের গ্রামেও প্রায় একইরকম ভাবে মৃত্যু হচ্ছে গরুর৷ এরপরই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় গোটা এলাকায়৷

আরও পড়ুন: যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ ও মোদীকে একই আসনে রাখলেন বিজেপি নেতা

- Advertisement -

এদিকে, খবর পেয়ে তড়িঘড়ি রাজ্য প্রাণী সম্পদ আধিকারিকরা শুক্রবার প্রতিটি অঞ্চলে পৌঁছে যান। খতিয়ে দেখেন এলাকার পরিস্থিতি। পাশাপাশি বাড়িগুলিতেও তাঁরা অভিযান চালায়৷ এলাকা খতিয়ে দেখার পরা তাঁরা জানান, জায়গাগুলি নিচু এলাকাতে হওয়ায় বর্ষার জল জমা হয়ে থাকে৷ আর সেখানে খাবারের জন্য গরুগুলি যাতায়াত করায় সেই জল তাদের পায়ে লাগে৷ এর ফলেই তাদের পায়ে এক প্রকার ইনফেকশন হয়ে যায়৷ আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে সংক্রমণ।

সেই সঙ্গে প্রত্যেক অঞ্চল যেখানে যেখানে জল জমে রয়েছে সেখানে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে প্রাণী সম্পদের জেলা আধিকারিক চারটি টিম প্রত্যেক এলাকায় পর্যবেক্ষণের কাজ চালাচ্ছে। তবে ইনফেকশন ছাড়াও অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, এলাকাবাসী সরকারি গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগ, সরকারি দফতরে ১৫ দিন আগে জানানো হলেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: অনন্তনাগে পুলিশ জঙ্গি সংঘর্ষ, নিহত এক জঙ্গি

এই প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল নেতা অমূল্য মাইতি অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও গরু মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচটার বেশী নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা খবর পাওয়ার পরই চিকিৎসা শুরু করার ব্যবস্থা করেছি৷ পশু চিকিৎসক দল এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে। কলকাতা থেকেও একটি দল শনিবার এসে পরিদর্শন করবেন৷ আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছি৷’’

Advertisement
-----