ফেসবুকে আলাপ জমিয়ে ডাকাতি, ধৃত ৩

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাগুইআটির ডাকাতির রহস্য কিনারা করতে গিয়ে চক্ষুচড়কগাছ দুঁদে পুলিশ কর্তাদের৷ ধৃত তিনজনকে জেরা করে পুলিশের তদন্তে উঠে এল- এক্ষেত্রেও নষ্টের মূল সেই সোশ্যাল সাইট!

ফেসবুকের মাধ্যমে ওই গৃহবধূর সঙ্গে দুষ্কৃতীর পরিচয়। সেখান থেকে ঘনিষ্ঠতা৷ তবে প্রেমের নয়, মধ্যবয়সী গৃহবধূকে ‘ছোট মা’ বলে সম্বোধন করত সে৷ সেই সূত্রেই হোয়াটসঅ্যাপে কথা চালাচালি৷ মহিলার অন্দরের যাবতীয় তথ্য জানার পরই নিজের দুই সঙ্গীকে নিয়ে ডাকাতির ছক কষে ওই যুবক৷ পরিচয় গোপন করতে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় হেলমেট পড়ে তারা ঢুকেছিল গৃহবধূর বাড়িতে৷

বাগুইআটি ডাকাতির ঘটনার তদন্তে নেমে ধৃত তিনজনকে জেরা করে এমনই রোমহর্ষক তথ্য জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা৷ ধৃত, সঞ্জীব দাস ওরফে নাড়ু ওরফে আকাশ (২৭), প্রভাকর নাইয়া (২৮) ও শুভাশিস কর্মকার ওরফে পাপাই (৩৩)কে জেরা করে এবিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা৷ ধৃতদের আজ, বুধবার বারাসত আদালতে তোলা হবে৷

- Advertisement -

রবিবার ভর সন্ধেয় বাগুইআটির দেশবন্ধু নগরে স্বপ্না কুণ্ডুর বাড়িতে হানা দেয় তিন যুবক৷ কলিং বেলের আওয়াজ শুনে দরদা খুলতেই মহিলাকে ধাক্কা মেরে ঘরে ঢুকে পড়ে হেলমেট পড়া তিন যুবক৷ একটি ঘরে মহিলাকে আটকে রেখে আলমারির চাবি নিয়ে নগদ কয়েক হাজার টাকা সহ ২০ ভরি গহনা লুঠ করে পালায় দুষ্কৃতীরা৷ ভর সন্ধেয় এহেন ডাকাতির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়৷ নাগরিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে যায় পুলিশের ভূমিকা৷

তদন্তে নেমে পুলিশ ওই মহিলার সোশ্যাল সাইট ও মোবাইলের কল রেকর্ডিং ঘেঁটে জানতে পারে- সঞ্জীব ওরফে নাড়ু ওরফে আকাশের নাম৷ তদন্তকারীরা দেখেন, সেই সময় আকাশের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন শনাক্ত করে দেখা যায়- সেটি ওই মহিলার বাড়িতেই দেখাচ্ছে৷ এরপরই স্বপ্নাদেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা৷ তিনিও পুলিশকে জানান, ওই দিন সন্ধেয় আকাশের তার বাড়িতে আসার কথা ছিল৷ আকাশ তাঁকে ছোট মা বলে ডাকত৷ যা থেকে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, ‘‘ডাকাতির উদ্দেশ্যেই সঞ্জীব নিজের নাম ভাঁড়িয়ে আকাশ নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ওই মহিলার সঙ্গে আলাপ জমিয়েছিল৷’’

এরপরই দমদমের ৯৯/১০৬ বাবুচি কলনী থেকে আকাশকে আটক করে পুলিশ৷ পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত নিজের দোষ কবুল করেছে৷ তাকে জেরা করে দমদমের নাগেরবাজার এলাকা থেকে তার সঙ্গী প্রভাকর ও দমদমের কালতলা এলাকা থেকে শুভাশিসকে পাকড়াও করে পুলিশ৷ ধৃতদের আজ, বুধবার আদালতে তোলা হবে৷ যে তাঁকে ‘ছোট মা’ বলে ডাকত, সেই যে ডাকাতির প্রধান ষড়যন্ত্রী তা ভেবে আঁতকে উঠেছেন স্বপ্নাদেবী৷ তাঁর কথায়, ‘‘ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হলেও আকাশের (সঞ্জীব) পরিবারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল৷ আমি ওর দিদির বিয়েতেও গিয়েছিলাম৷ ওরাও আমাকে ‘ছোট মা’ বলে ডাকত৷ আমি নিঃসন্তান হওয়ায় ওদেরকেও কখনও সন্দেহ করিনি৷ ছেলে-মেয়ের মতোই দেখতাম৷ সেই ছেলে যে এমন কাণ্ডকারখানা করতে পারে, বিশ্বাস করুন ভাবতে পারছি না৷’’ ধৃতদের জেরা করে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, টাকার লোভেই এই ডাকাতি৷ ধৃতদের অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷

Advertisement ---
-----