গান্ধী বংশনাশ রহস্যের ‘পর্দাফাঁস’

বেশ কয়েকবছর পর পরিচালক-প্রযোজক মিলন লুথরিয়া নিয়ে আসতে চলেছেন তাঁর নয়া ছবি বাদশাহো৷ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন অজয় দেবগণ(চরিত্র- ভাওয়ানি), ইলিয়ানা ডিক্রুজ(চরিত্র-গীতাঞ্জলি), ইমরান হাসমি, ইশা গুপ্তা, বিদ্যুৎ জামওয়াল সহ আরও অনেকে৷ স্পেশাল অ্যাপিয়ারেন্সে দর্শকেরা পাবেন সানি লিওনিকেও৷ স্টারকাস্ট এবং পরিচালক, এই দুইয়ের সমন্বয়ে ছবি যে জমজমাট হতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য৷

ভাবছেন শিরোনামের সঙ্গে ভেতরের এই লেখার মিল কোথায়? ভালো করে ভেবে দেখলে মিল কিন্তু অনেকেরই চোখে পড়বে৷ আসলে এই ছবিকে আরও ইন্টারেস্টিং করে তুলেছে এর বিষয়বস্তু৷ কারণ সত্তরের দশকের জরুরীঅবস্থার প্রেক্ষাপটেই এই থ্রিলার ভিত্তিক ছবি তৈরি করেছেন পরিচালক মিলন লুথরিয়া৷ তবে এই এমারজেন্সি বা জরুরী অবস্থাকে নিয়েই রয়েছে কিন্তু বেশ কিছু জানা-অজানা কথা৷ কেউ তা সত্যি মানেন, কেউবা গল্প৷ তেমনই কিছু শোনা গল্প-তথ্য রইল আপনাদের জন্যও৷

আরও পড়ুন: ৯০০ বছর বেঁচেছিলেন এই সাধুবাবা! শিষ্য ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী থেকে বাজপেয়ী

- Advertisement -

১) সত্তরের দশকের জরুরী অবস্থা৷ সে সময় জয়পুরে আমেরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সেনা পাঠান গুপ্তধন উদ্ধারের জন্য৷ শোনা যায় সে সময় জয়পুরের মহারানি গায়ত্রী দেবীকে জেলে আটকেও রাখা হয়৷ তিন মাস ধরে সেখানে তাঁর সম্পত্তিতে তল্লাশি চালিয়েও কোনও গুপ্ত সম্পত্তির হদিশ পায়নি সেনাবাহিনী৷

আরও পড়ুন: সুচিত্রা সেনের ছবি নিষিদ্ধ করেছিল ইন্দিরা গান্ধীর সরকার

২) আকবরের সেনাপতি মানসিং একবার আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে ফেরার সময় সঙ্গে করে সম্পত্ত নিয়ে ফিরেছিলেন৷ বেশিরভাগটাই আকবরকে দিয়ে দিলেও, বেশ কিছুটা নিজের কাছে রেখে দেন তিনি৷ শোনা যায় তা জয়গড়ের কোনও দুর্গের নিচে পুঁতে রাখেন তিনি৷ পরে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে সেই স্থান খোঁড়া হয়, পাঠানো হয় ট্রাকও৷ কিন্তু সেই ট্রাক সোনা নিয়ে ফইরে এসেছিল নাকি তা ছিল সম্পূর্ণ খালি তা জানা যায়নি৷

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আমলে রেডিও-তে কিশোরকুমারে গান নিষিদ্ধ হয়েছিল

৩) আবার শোনা যায়, কেউ ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে সঞ্জয় গান্ধীকে জানান, আমেরে মানসিং-এর প্রভূত সম্পত্তি লুকনো রয়েছে৷ তখন তিনি এমারজেন্সির অজুহাতে সেনা পাঠান৷ জয়পুরের কাছে আমেরে ৭দিনের জন্য কারফিউ জারি করেন সঞ্জয় গান্ধী৷ জমি খনন করে সাত ট্রাক সোনা, রুপো এবং গয়না পাওয়া যায়৷ সকলের নজর এড়িয়ে এগুলি জয়পুর থেকে দিল্লি নিয়ে আসা হয়৷ নয়াদিল্লির ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ইন্দিরা গান্ধী দুটি বিশাল প্লেন রেডি রেখেছিলেন৷ এখান থেকেই এইসব সম্পত্তি সুইজারল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে শোনা যায়৷

আরও পড়ুন: ইন্দিরার নির্দেশেই ‘অপারেশন ব্লু স্টার?’ আজও উত্তর নেই কেন্দ্রের কাছে

৪) রাজা মান সিং একবার বাংলার গৌড়ে গিয়েছিলেন৷ যা এখন বাংলাদেশের অন্তর্গত৷ সেখানে মা কালির জাগ্রত মন্দির যশোর দর্শনে যান তিনি৷ দেবীর মূর্তি তাঁর এতটাই ভালো লাগে যে পুরোহিত সহ তিনি এই মূর্তি তিনি আমেরে চলে আসেন এবং সেখানেই তার স্থাপনা করেন৷ এই মন্দিরেই মানসিং সোনা-রুপা-অলঙ্কার লুকিয়ে রাখেন বলে শোনা যায়, যাতে সমস্যার সময়ে রাজ্যের কাজে আসে এইসব ধনসম্পত্তি৷ মনে করা হয়, এই সম্পত্তির সঙ্গে একটি অভিশাপ জড়িয়ে ছিল৷ বলা হয়, যারা এই সম্পত্তি ব্যবহার করবে, তার বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে৷ সঞ্জয় গান্ধী যখন এই সম্পত্তি নিয়ে নেন, তার পরে পরেই তার পরিবারে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটতে শুরু করে৷ প্রথমে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান সঞ্জয় গান্ধী৷ তারপর হত্যা হয় ইন্দিরা গান্ধীর৷ আর তার পরে রাজীব গান্ধী৷ এভাবেই যেন অভিশাপের কথাটি প্রতিফলিত হয়ে বারবার উঠে আসে সামনে৷

আরও পড়ুন: কল্পতরুর খিলি পানে পীরিতের আগুন জ্বালিয়েছেন ইন্দিরা-মান্না

৫) তবে শোনা যায়, এই সম্পত্তি খোঁজার আসল কারণ কি ছিল, সে সম্পর্কে নাকি জানান স্বয়ং গায়ত্রী দেবী৷ ১৯৬২, ১৯৬৭, ১৯৭১-এ লোকসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি৷ এবং এই নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীদের হারান তিনি৷ সেই ক্ষোভ থেকেই ইন্দিরা গান্ধী এমারজেন্সির আগে বিপক্ষ নেতা-মন্ত্রীদের ওপর তল্লাশি করতে শুরু করেন বলে মনে করেন তিনি৷ সেই তালিকায় নাম আসে গায়ত্রী দেবীর৷ এমারজেন্সির চার মাস আগে ১১ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫-এ ইনকাম ট্যাক্স অফিসারেরা গায়ত্রী দেবীর প্রাসাদে পৌঁছন৷ সেখানে গিয়ে সবকিছু তারা সিল করে দেন৷

কাওকে বাইরে যাওয়ার অনুমতিও দেননি তারা৷ সেসময়ই গায়ত্রী দেবী এবং তার সন্তানদের বাকি ঘরগুলিতেও তল্লাশি অভিযান শুরু হয়ে যায়৷ কয়েক সপ্তাহ এই তল্লাশি অভিযান চলতে থাকে৷ একদিন দুপুরে যখন মোতি ডোংরি দুর্গে গায়ত্রী দেবী বিশ্রাম করছিলেন তখন তিনি দেখেন, নিচে কিছু অফিসার মাটি খুঁড়ে তল্লাশি জারি রেখেছেন৷ আর সেই কাজের মাঝে হঠাৎই তাদের হাতে উঠে আসে জমির নিচে থাকা প্রভূত পরিমাণ সোনার মুদ্রা৷ কিন্তু এগুলি অবৈধ ছিল না৷

আরও পড়ুন: শাশুড়ি ইন্দিরাকে কাঁদিয়ে ছেড়েছিলেন বৌমা মানেকা

সত্তরের দশককে ঘিরে এমনই বহু ইন্টারেস্টিং কথাবার্তা শোনা যায়৷ তবে উপরের এতগুলি গল্পের মধ্যে ছবির জন্য মিলন লুথরিয়া কোনটি বেছে নিয়েছেন তাঁর বাদশাহো ছবির জন্য সেটাই দেখার৷ অজয়-ইলিয়ানার কেমিস্ট্রি আর সেই সঙ্গে জমাটি গল্প কতটা হলমুখী করবে দর্শকদের জানা যাবে ১সেপ্টেম্বর, ছবি মুক্তির দিনই৷

Advertisement ---
---
-----