বরুণ একা নন, ‘মধু-ফাঁদে’র ফাঁপরে পড়েছেন অনেকেই

Kolkata24x7 News Bureau:  সম্প্রতি একটি খবর সংবাদমাধ্যমে চাউর হয়েছে৷ তাতে নাম জড়িয়েছে বিজেপির তরুণ তুর্কি তথা সাংসদ বরুণ গান্ধীর৷ জানা গিয়েছে অভিষেক বর্মা নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ী প্রতিরক্ষা দফতরের গোপন তথ্যের হদিস করতে ‘বরুণের ঘরে মেয়ে ঢুকিয়েছিলেন’৷ নিজের ব্যবসার স্বার্থেই নাকি সেই ‘জট’ খুলেছিলেন তিনি৷ যদিও এটি অভিযোগ৷

আর এই অভিযোগটি করেছেন মার্কিন ব্যাবসায়ী তথা অভিষেকের একসময়ের সহযোগী এডমন্ড অ্যালেন৷ তাঁর দাবি অভিষেক নিজের ব্যাবসায়ীক স্বার্থের জন্য যৌনকর্মীর সঙ্গে মধুমেহ সময় কাটানোর টোপ দেন বরুণকে৷ সেই টোপ নাকি একেবারে লুফে নেন বরুণ৷ এর সাপেক্ষে বরুণ গান্ধীর বেশ কিছু আপত্তিকর ছবিও পোস্ট করেছেন অ্যালেন ৷

শুধু টোপই নয়৷ মধুমাখা মুহূর্ত কাটানোর পর প্রতিরক্ষা দফতরের সব  ‘না বলা কথা’ও নাকি ব্যবসায়ী অভিষেককে গড়গড় করে বলে ফেলেছেন বরুণ৷ আর তা নিয়েই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছে বরুণ গান্ধী ৷ তাঁকে কলুষিত করতেই এমন চক্রান্ত করা হচ্ছে৷ যারা তাঁর বিরুদ্ধে এই প্রচার চালাচ্ছে তাদের সকলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি৷

তবে বরুণ যতই হুঁশিয়ারি দিক না কেন, তরুণ সাংসদের এহেন কাণ্ডে মুখ পুড়েছে দলের৷ শীর্ষস্থানীয় বেশিরভাগ নেতাই যে যেরকম ভাবে পারছেন এড়িয়ে চলছেন বরুণ গান্ধীকে৷ সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ বিজেপির তরফেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে৷ আপাতত নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বাইরে বরুণ যেন পা না রাখে সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে৷ তবে এখন কথা হল বরুণ কিন্তু একা নন৷ বিজেপি থেকে কংগ্রেস৷ প্রায় সব রাজনৈতিক দলেই এই ধরণের মূর্তিমানরা রয়েছেন৷

বরুণ গান্ধীর ‘মধুচক্রের’ খবর জানতে ক্লিক করুন এই ছবিতে

varun-gandhi21

গুজরাতের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় যোশীকে নিয়ে ২০০৫ সালে তোলপাড় হয় দেশ৷ সেই সময় একটি ভিডিও ও অডিও টেপ প্রকাশ হয়৷ তাতে এক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গিয়েছিল জোশীকে৷ পরে জানা যায়, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এই কাজ করেছিলেন তিনি৷ এরপর তাঁকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় দল৷

তবে গত দশকে ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন এনডি তিওয়ারী৷ অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল থাকার সময় অফিসে বসেই তিন মহিলার সঙ্গে মধুমেয় সময় কাটিয়েছিলেন তিনি৷ দক্ষিণ ভারতের এক টেলিভিশন চ্যানেলের স্টিং অপারেশনে ধরা পড়ে সেই ছবি৷ এরপর বিতর্কের মুখে পড়ে রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেন এনডি৷ এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি৷

২০১২ সালে যৌন কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে যান কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা তথা নামযাদা আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি৷ তাঁর গাড়ির চালক একটি ভিডিও টেপ প্রকাশ করে৷ আর তাতেই ধরা পড়ে সিংভির এই কু-কীর্তি৷ সেই সময় এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সংসদেও ঝড় তুলেছিল বিজেপি(তখন বিরোধী দল) ৷

এছাড়াও ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে যৌন কেলেঙ্কারির আরও ভুরি ভুরি নজির রয়েছে৷ যেমন, ২০১৩ সালে যৌন-কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে যাওয়ায়, মধ্যপ্রদেশের অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন রাঘবজী ৷

Advertisement
----
-----