রেল টিকিট সংগ্রহ করতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সামনেই ঈদ-উল-ফিতর৷ তাই আগাম ট্রেনের টিকিটের চাহিদাও তুঙ্গে৷ রবিবার ছিল ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিন৷ তবে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হতেই ছন্দপতন হল টিকিট কাউন্টারে৷
রাত জেগে অনেকেই টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ কিন্তু ভোর হতেই পালটে গেল ছবিটা৷ লাইনের মাঝে এসে অনেক যাত্রীই ঢুকে পড়ায় তৈরি হল চরম বিশৃঙ্খলতা৷ আর এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে দফায় দফায় চলল বিক্ষোভ৷

বলা হয়েছিল, রবিবার সকাল আটটা থেকে ১২ জুনের টিকিট বিক্রি করা হবে৷ আর সেই মতোই যাত্রীরা দাঁড়িয়ে ছিলেন লাইনে৷ তবে বিকেল চারটে পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৫১৪ টি আসনের বিপরীতে টিকেট বিক্রি করা হয়৷ এছাড়া দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক যাত্রীদেরও টিকেট বিক্রি হয়েছে৷ কিন্তু রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, পাবনাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য নির্ধারিত আগাম টিকেটের কাউন্টারগুলোতে দেখা যায় বিশৃঙ্খলা৷

সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গের আগাম টিকেটের জন্য আসা যাত্রীরা রাত থেকেই নিজেদের লাইন ঠিক করে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷ যাতে কেউ পরে এসে ভিড়ের সুযোগে সামনে দাঁড়াতে না পারে৷ কিন্তু ভোরবেলায় কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ জানিয়েছেন, অনেকেই এসে লাইনের প্রথমে দাঁড়িয়ে পড়ছিলেন৷ অভিযোগ, সেখানে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যদের জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি এই বিষয়৷

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, ঢাকা কলেজের এক ছাত্র মিলন বলেন, ‘‘টিকিট কাটার জন্য ভোররাতেই এসে গিয়েছিলাম আমি৷ তখন লাইনের প্রায় ২১৪ নম্বর স্থানে আমি জায়গা পাই৷ রবিবার সকাল আটটায় টিকিট বিতরণ শুরু হলেও বেলা এগারোটার সময়ও বাকি ছিলেন বহুজন৷’’ এ প্রসঙ্গে আরও দুজন যাত্রী অভিযোগ করেন, তাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়ছিলেন৷ তাঁরা আরও জানান, সামনে যাতে কেউ সুযোগ নিতে না পারে সেজন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সকল যাত্রীদের ফোন নম্বর নিয়ে রাখা হয়েছিল৷ এমনকি কিছু সময় অন্তর লাইনটি ঠিক রয়েছে কিনা পরীক্ষাও করা হচ্ছিল৷

ঘটনার প্রেক্ষিতে জিআরপি পুলিশের এক কর্মী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘‘কিছু যাত্রী লাইন ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে এসেছে। আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরই আরএনবির সদস্যদের ডেকে বলে দিয়েছি। পরে সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। তবে পুরুষদের লাইনে বিশৃঙ্খলা থাকলেও অনেক স্বচ্ছন্দেই নির্ধারিত তিনটি কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পেরেছেন নারীরা৷ তবে সেখানেও ধীরগতিতে টিকেট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বহুযাত্রী৷

উল্লেখ্য, এদিন তুলনামূলক অনেক শান্তিতে টিকেট সংগ্রহ করেছেন কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালীর যাত্রীরাও৷ কুমিল্লার টিকেট কিনতে এসে এক ঘণ্টার মধ্যেই পেয়ে গিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী৷ ওই শিক্ষার্থী জানান, সকাল দশটার দিকে টিকেট নিতে এসে এগারোটার মধ্যেই চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেসের টিকেট পেয়েছেন তিনি। তবে সিলেট ও উত্তরবঙ্গের লাইনে থেমে থেমে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন ওই ছাত্র৷

প্রসঙ্গত, ১৩ জুন থেকে ঈদের জন্য বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে বলে জানা গিয়েছে৷ আর সেই সূত্র ধরেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সেদিনের বিশেষ ট্রেন ও বিশেষ বগি যুক্ত হওয়ায় আরও বেশি আগাম টিকেট বিক্রি করা হবে।’’ শুধু তাই নয়, আগাম টিকিটের সঙ্গে ২৫ শতাংশ টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে অনলাইনেও। তবে ঈদ উপলক্ষে অনলাইন সার্ভারে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় অনেকেই টিকেট সংগ্রহ করে উঠতে পারেননি৷ এই প্রসঙ্গে বাকি যাত্রীরা দাবি করেছেন, টিকিট দেওয়ার সময় যদি বাড়িয়ে দেওয়া যায় তাহলে আশা করা যায় এই সমস্যা সমাধান হবে৷

Advertisement ---
---
-----