সুমন বটব্যাল, কলকাতা: কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ!

প্রতিদিনের সেই ব্যস্ততা নেই৷ নেই ঘাম ঝরানো পরিশ্রম৷ বরং, দিনভর যেন শুধুই প্রশান্তি৷ অন্যদিকে যে লোকটা দিনভর ক্রেতা সামলাতে সামলাতে নাস্তানাবুদ হন, এ দিন সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত তিনি শুধুই মাছি তাড়ালেন! হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন ‘কাস্টমার’!

Advertisement

হ্যাঁ, ৩৬ জি তপসিয়া রোডের কথাই বলা হচ্ছে৷ বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনটা রবিবার খাঁ খাঁ করছিল৷ দেখলে বোঝা দায়, পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে৷ অথচ শাসকদলের ভবনে কোথায় সেই ব্যস্ততা! কোথায় সেই কোলাহল! বরং পরিবেশটা এতটাই নিস্তব্ধ যে পিন পড়লেও শব্দ পাওয়া যাবে৷ দিনভর দেখা মিলল না কোনও নেতার৷ আগাম, সেই খবর পেয়ে যাওয়ায় সেই অর্থে এ দিন ভবনমুখী হননি জেলার নেতা-কর্মীরাও৷ ফলে দিনভরই চরম নিস্তব্ধতা বজায় থাকল শাসকদলের তিনতলা ওই ভবনটায়৷

মাঝে একবার ভবনমুখী হয়েছিলেন মিডিয়া-বিমুখ হিসাবে পরিচিত দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সি৷ তাও মিনিট ১৫-র জন্য৷ স্বভাবতই, দিনভর শুয়ে বসে কাটালেন ভবনের সর্বক্ষণের কর্মীরা৷ নাছোড় সাংবাদিকের হাজারও প্রশ্নের মুখে তাঁদের অকপট স্বীকারোক্তি, এমন দিন মাঝে মাঝে এলে ভালোই হয়!

দলের এক কর্মীর কথায়, ‘‘একে শাসকদলের পার্টি অফিস, তার উপর ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে৷ ফলে আখের গোছাতে সেই সূর্যের আলো ফোটা থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের আনাগোনা অব্যাহত থাকে৷ তাঁদের জন্য বোতলের পর বোতল জল ভরতে ভরতে, ঝাঁট দিতে দিতে হার-মাশ এক হয়ে যায়৷ অনেকদিন পর একটু জিরোনোর সময় পেলাম৷’’

ঘটনাচক্রে এ দিন সেই অর্থে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার খবরও প্রকাশ্যে আসেনি৷ ফলে চৈত্রের দুপুরে পার্টি অফিসের ঠাণ্ডা হাওয়ায় বসে টিভিতে বিভিন্ন চ্যানেল সার্চ করতে করতে কর্মীরা রসিকতার সুরে বলছিলেন, ‘‘দেখেছিস, রবিবারের মহিমা! আজ জেলায় জেলায় হিংসারও ছুটি! সকলেই বিশ্রাম নিচ্ছে!’’ বাইরে চায়ের দোকানে খরিদ্দারহীন বিক্রেতা কার্যত হতাশার সুরে বললেন, ‘‘বহু দিন পর এরকম মাছি তাড়ানো হাল হল৷ কী আর করা যাবে!’’

পার্টি অফিস দেখে তো মনেই হচ্ছে না ভোট এসেছে! ব্যাপারটা কী? তৃণমূল ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সুব্রত বক্সির নির্লিপ্ত জবাব, ‘‘আমরা সারা বছরই মানুষের পাশে থাকি৷ ফলে ভোটের জন্য আলাদা করে ভাবতে হয় না৷’’ যা শুনে দলেরই এক কর্মীর টিপ্পনি, ‘‘আজ রবিবার৷ তাই সব ছুটি৷ কাল থেকে আবার আগের ছবি দেখতে পাবেন৷’’

কী সেই ‘ছবি’ তা অবশ্য খোলসা করেননি ঘাসফুল শিবিরের ওই রসিক কর্মী৷

----
--