সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যে শিল্প আনতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিমশিম খাচ্ছেন। শিল্প খুঁজতে দেশে বিদেশে পাড়ি দিতে হচ্ছে। অথচ ব্রিজের তলায় লুকিয়ে রয়েছে গুপ্ত শিল্প তালুকের ঠিকানা৷ সে খবর তাঁর বোধহয় জানাই নেই। উল্টোডাঙা থেকে খান্নার মোড় আসার পথে অবস্থিত অরবিন্দ সেতুর তলায় গজিয়ে ওঠা কারখানাগুলির কর্মী থেকে মালিকদের সকলেরই বক্তব্য ওই স্থানটি রাজ্য সরকার অনুমোদিত ‘শিল্প তালুক’ ।

মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙেছে মঙ্গলবার। ২০১৩ সালে উল্টোডাঙ্গা উড়ালপুল কিংবা ২০১৬ সালে নির্মিয়মান পোস্তার উড়ালপুল ভেঙে কতটা শিক্ষা নিয়েছে এই সরকার তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ তবে সমালোচনা মুখে পড়ে আবার যেন রাজ্যসরকারের ঘুম ভেঙেছে এবারে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্রিজের তলায় যদি কোনও বসতি থাকে অথবা কোনও ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাহলে ব্রিজের নিরাপত্তার জন্য এদের সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে সরানো হলেও সাধ্যমত তাদের পুনর্বাসনও দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন৷

Advertisement

কিন্তু এটাও ঘটনা মুখ্যমন্ত্রী যখন এই নির্দেশিকার কথা বলেছেন তখনই কিন্তু এই অরবিন্দ সেতুর তলায় লেদ মেশিন চলছে, তেলের ঘানি চলছে, রঙে কারখানায় কাজ হচ্ছিল, গ্যাস কাটিংয়ের কাজ চলছিল। এমন সেতুতে থাকা ‘শিল্প তালুকে’র গায়ে অবশ্য তৃণমূল সরকারের প্রিয় নীল সাদা রঙ করা। প্রশ্ন উঠছে ব্রিজের তলায় কিভাবে চলতে পারে লেদ মেশিন, গ্যাস কাটিংয়ের কাজ? তেতে ওঠা লোহায় কি ব্রিজের স্বাস্থ্য আরও ভালো হয়ে ওঠে নাকি খারাপ হয়?

রঙের কারখানার মালিক সুরজিতকুমার দাস বলেন, “প্রথমত এটা সরকারের অনুমোদিত জায়গা। এখানে কোনও বে-আইনি ভাবে কারখানা তৈরি হয়নি। স্মল স্কেল ইন্ডাস্ট্রি হিসাবে আমাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বছর চল্লিশেক আগেই।” একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “ব্রিজের ক্ষতির বিষয়ে আমরা কিভাবে বলব? সরকার বুঝেছে বলেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা তো এর জন্য ভাড়াও দিয়ে থাকি।” লেদ কারখানার মালিক সোমনাথ রায় বলেন, “আমি এখানে বছর তিরিশ ব্যবসা করছি। পুনর্বাসন দিলে আমাদের সরতে অসুবিধা নেই।” আবার তিনি এও বললেন, “বে-আইনি হতে পারে হয়তো। আমরা এত সব জানি না।”

কারখানা যদি চল্লিশ বছর আগে অনুমোদন পেয়ে থাকে তা স্বাভাবিক ভাবেই বাম জমানার ‘কাণ্ড’ হবে। কিন্তু পালাবদলের পরেও তো সাত বছর কেটে গেল তবে এই তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলেও অরবিন্দ সেতুতে কোনও পরিবর্তনের ছাপ নেই।

এই প্রসঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর অনিন্দ্য রাউত বলেন, “আমি এখানে তিন বছর দায়িত্ব পেয়েছি। ওই কারখানা তো বামেরা অনুমোদন দিয়েছে। তাছাড়া আমার কাজ পৌর এলাকার সুবিধা অসুবিধা দেখা। ব্রিজের তলায় কারখানা ওঠানো নয়।” স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে যদি কোনওভাবে অরবিন্দ সেতু ভেঙে পড়ে সেটা কি তাঁর পৌর এলাকার মানুষের অসুবিধা বা বিপদের মধ্যে পড়বে না?

ছবি, মিতুল দাস

সে প্রসঙ্গে অনিন্দ্যবাবুর যুক্তি “আমি তো এই কারখানাগুলোর ব্যাপারে মন্ত্রী ববি হাকিমকে গত বছরেই বলেছি। উনি তো ইন্সপেকশন করে গিয়েছেন।” এই প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে বারংবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রত্যেকবারই তিনি ফোন কেটে দেন।

----
--