অতন্দ্র ভারতীয় সেনার বজ্রমানিক আর্টিলারি

শত্রুপক্ষের এলাকায় ঢুকতে পদাতিক ও সাঁজোয়া বাহিনী লাগে ঠিকই, কিন্তু শত্রুর কোমর ভেঙে দিয়ে জয়ের রাস্তা সাফ করার জন্য যেটা সব থেকে বেশি কাজ দেয় বেশি, তা হল কামানবাহিনী বা আর্টিলারি। বোফর্সের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে নতুন কামান ঢোকেনি, ঠিক কথা। কিন্তু এই বোফর্সের দুর্জয় ক্ষমতায় ভর করেই ভারতের সেনাবাহিনী কারগিলে শত্রুনিপাত করেছিল৷ আশার কথা, কেন্দ্রে মোদীর সরকার আসার পর পরই সমরশক্তি বাড়াতে একগুচ্ছ নয়া কামান ভারতের গোলন্দাজ বাহিনী পেয়েছে, আরও কিছু যোগ হওয়ার কথা চলছে। দেখে নেওয়া যাক ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনীর কয়েকটি বিশেষ শক্তিশালী কামান:

১. বিএই সিস্টেমস এম-৭৭৭ আলট্রা লাইট হাউইৎজার: কামানের কথা যখন বলা হয়, তখন আলট্রা লাইট শব্দটা তার সঙ্গে সেভাবে খাপ খায় না হয়তো। তবে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের নিরিখে এই কামান তুলনামূলক হালকা ধরনের। চার টনের কাছাকাছি ওজন কামানটির। কামানটি বডি টাইটেনিয়ামে গড়া। সিএইচ-৪৭ চিনুকের মতো হেলিক্প্টারে করে তুলনামূলকভাবে হালকা ওজনের এই কামান বয়ে নিয়ে সম্ভব। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, বাদবাকি বিশ্বের নিরিখে সব থেকে উচ্চতায় নির্মিত এয়ারস্ট্রিপ লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডিতেও এই কামান পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সি-১৩০ হারকিউলিস এয়ারলিফটার। এম৭৭৭ কামানটির পাল্লা ২৪-৩০ কিলোমিটার।

- Advertisement DFP -

(ভারতীয় বায়ুসেনা: স্যালুট জানানোর ১০টি কারণ)

২. ডিআরডিও ধনুষ: সুইডেনের কাছ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বোফর্স কেনা হয়েছিল, সেই সময়ই এ দেশের বুকে বোফর্সের মতো শক্তিশালী কামান তৈরির কথা ওঠে। বোফর্স নির্মাতা সংস্থা কামান তৈরির ব্লু-প্রিন্টও পাঠায়৷কিন্তু তার পর একদিকে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী ওলাফ পামের হত্যাকাণ্ড এবং অন্যদিকে বোফর্স কাটমানির সূত্র ধরে এদেশের রাজনীতিতে ঝড় ওঠায় প্রকল্পটি থমকে যায়। দীর্ঘ বিলম্বের পর ডিআরডিও ফের বোফর্সের মতো শক্তিশালী ও বিধ্বংসী কামান তৈরির পরিক্ল্পনা করে ও তাতে সফল হয়। জন্ম নেয় ধনুষ। ৩৯ ক্যালিবার থেকে বাড়িয়ে এই নয়া কামানের গোলাবাজির ক্ষমতা করা হয়েছে ৪৫ ক্যালিবার। সেইসঙ্গে ধনুষের গোলাবর্ষণের পাল্লা ২৭ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যেই ডিআরডিও-কে ১১৪টি কামানের বরাত দিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী, আরও ৪১৪টির অর্ডার ভবিষ্যতে দেওয়া হবে।

(সফল আইএনএস অরিহন্ত: ২০১৬-র ফেব্রুয়ারিতেই সেনার হাতে)

৩. ডিআরডিও অর্জুন ক্যাটাপল্ট এমকে-২: অর্জুন ট্যাঙ্কের ১৩০ মিলিমিটারের ‘আর্টিলারি গান’ নির্মিত হয় আটের দশকে৷ সেই আর্টিলারি গানের ক্ষমতা আরও উন্নত করে ডিআরডিও বানিয়েছে অর্জুন ক্যাটাপল্ট এমকে-২। এম-৪৬ রাশিয়ান ট্যাঙ্কের সমান শক্তিধর এই অর্জুন কামানের পাল্লা ২৭ কিলোমিটার। এই পাল্লায় যে পড়বে সে-ই ফৌত!

(ভারতীয় সেনার দশ কীর্তি জানলেপনিও জানাবেন স্যালুট!)

৪. হুইলড সেলফ-প্রপেলড গান: ২০১৩ সালেই প্রথম ভারতের সেনাবাহিনী ১৫৫ মিলিমিটারের ৫২ ক্যালিবারওয়ালা ৮১৪টি চলমান স্বয়ংক্রিয় কামানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। টেন্ডার ডাকা হয়। জানা গিয়েছে, টাটা পাওয়ার স্ট্র্যাটেজিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর চাহিদামতো তেমন কামান তৈরি করে ফেলেছে। রাজধানীতে তার প্রদর্শনীও হয়ে গেল সদ্য সদ্য। পাশাপাশি, আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা এ ধরনের কামান তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যার মধ্যে রয়েছে অশোক লেল্যান্ড ও লার্সেন অ্যান্ড টুবরো। ফ্রান্সের নেক্সটার সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে তেমন কামান নির্মাণের কাজ।

(ভারতরক্ষায় প্রস্তুত সেনারয়টি বাহিনী প্রতিবেশীর ঈর্ষার কারণ)

৫. তালিকায় আর যা আছে: দেখা যাচ্ছে, আগামী দিনে ১৮০টি হুইলড সেলফ-প্রপেলড গান ছাড়াও ভারতের গোলন্দাজ বাহিনীর দরকার অন্তত ১৫৮০টি ‘টোড গান’, যার মধ্যে ৪০০টি অবিলম্বে বিদেশ থেকে আমদানি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকিগুলির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আমদানি করে এ দেশেই সেগুলি অ্যাসেম্বল করে বানানোর কথা ভাবছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

(ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুর্জয় দশ শক্তিশেল)

Advertisement
----
-----