হীরে-রুবি-পান্নায় মোড়া নিজামের টিফিনবক্সেই রোজ খেত চোর

হায়দরাবাদ: হায়দরাবাদের পুরানি হাভেলির নিজাম মিউজিয়ামে ঠাসা ছিল নিজামদের রাজকীয় সম্পদে। কড়া নিরাপত্তা ভেদ করে সেই মিউজিয়ামেই ঘটে গিয়েছিল অঘটন। নিজাম মিউজিয়াম থেকে চুরি গিয়েছিল সোনার টিফিন বক্স, রুবি, হিরে খচিত সৌখিন কাপ।

সেই চুরির তদন্তে নামে হায়দরাবাদ পুলিশ৷ এক সপ্তাহের মধ্যে খুঁজে বের করে নিজামের সম্পদ৷ বের করে আনে চমকপ্রদ তথ্য৷ মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে পুলিশ জানাল, হলিউডের সিনেমার কায়দায় চুরি হয়েছিল নিজাম প্যালেসে৷ অভিযুক্ত দুই চোর চুরি করেই পালিয়েছিল মুম্বইতে৷ আশ্রয় নিয়েছিল এক পাঁচতারা হোটেলে৷

ওই দুই চোরের কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে হিরে, রুবি ও পান্না খচিত চার কেজি সোনা দিয়ে তৈরি তিন ধাপের টিফিন বক্স, রুবি ও পান্না দিয়ে তৈরি করা সোনার কাপ প্লেট, সোনার চামচ ও সোনার ট্রে৷ এই সব ঐতিহাসিক সামগ্রী নিয়মিত নাকি ব্যবহার করত ওই দুই চোর৷ এতে রেখে তারা নাকি খাবার খেত! এমনই জানিয়েছে পুলিশ৷

- Advertisement -

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ জানায়, এই সব সামগ্রী চুরি করার পরে সোনার প্রচ্ছদে মোড়া ঐতিহ্যবাহী কোরাণটিও নিতে চেয়েছিল তারা৷ তবে তখনই ভোরের আজান শোনা যায়৷ তাতেই ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা৷ হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার অনজানি কুমার জানিয়েছেন যেসব দ্রব্য চুরি হয়েছিল, তার সাম্প্রতিক বাজার মূল্য ১ কোটি টাকারও বেশি৷

চবে ঐতিহাসিক মূল্য দেখতে গেলে এগুলির দাম ৩০-৪০ কোটি টাকা৷ দুবাইয়ের বাজারে এরকমই দাম পেয়ে যেত চোরেরা বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ অনেক তল্লাশির পরে চোরেদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, কারণ চুরির সময় প্রতিটি সিসিটিভির মুখ ঘুরিয়ে দিয়েছিল চোরেরা৷ ফলে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি৷

শুধু একটি ক্যামেরায় দেখা যায় দুই ব্যক্তি বাইকে করে পালাচ্ছে৷ তবে তাদের মুখ কোনওভাবেই দেখা যায়নি৷ চুরি যাওয়া জিনিস উদ্ধার করতে হায়দরাবাদ পুলিশের ২২টি দল একসাথে তল্লাশিতে নামে৷ ফুটেজে এক অভিযুক্তকে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল৷ সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোয়৷ তবে পরে জানা যায় তদন্তের অভিমুখ ঘুরিয়ে দিতেই ফোনে কথা বলার অভিনয় করেছিল ওই দুষ্কৃতী৷

পরে একটি পরিত্যক্ত বাইক উদ্ধার হয় জাহিরাবাদের কাছে৷ সেখান থেকেই সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয় ওই চোরেদের৷ জানা যায় মিউজিয়ামের গ্রিল ভেঙে, হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দুই চোর৷ সেপ্টেম্বরের দু তারিখের ঘটনা৷ পরের দিন সকালে নিরাপত্তারক্ষীরা দরজা খুলতেই হতবাক হন। কাঁচের শো-কেসে নেই সোনার বাক্স সহ কাপ,চামচ, পিরিচ। নিরাপত্তা আধিকারিক জানান, মিউজিয়ামের দ্বিতীয় তলার ভেন্টিলেটার ভাঙা হয়, সেখান দিয়ে ভেতরে ঢোকে চোরেরা৷

নিজাম মিউজিয়ামের সংগৃহীত সব সম্পদই সপ্তম ও শেষ নিজাম ওসমান আলি খান ও তাঁর বাবা ষষ্ঠ নিজামের ব্যবহৃত সামগ্রী। তৃতীয় তলার গ্যালারীর পুরোটাই সোনা,হিরে,রুবি দিয়ে তৈরি সৌখিন সামগ্রী,ফ্রেম,বাক্সে ভরা। এরমধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় ছিল চুরি যাওয়া সোনার টিফিন বাক্স।

Advertisement ---
---
-----