মুম্বই: অসহিষ্ণুতার ভুরি ভুরি উদাহরণে যখন সংবাদ শিরোনাম ছয়লাপ, সহিষ্ণুতার ছোট্ট একটা নজিরই নজর কাড়ে তখন৷ ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মহম্মদের গুণকীর্তন করে চলেছেন এক হিন্দু পুরোহিত৷

ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে নয়, হজরতকে তিনি দেখেন বিশ্ব মানবতার অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির হিসেবে হজরতকে চেনান তিনি৷ তিনি সাগর ত্রিপাঠি৷

Advertisement

তার বাড়িতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এরকম অজস্র উদাহরণ৷ সেখানে রয়েছে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান, রয়েছে হজরতের জীবনী৷ এরই সঙ্গে সেখানে রয়েছে হিন্দুদের পবিত্র গ্রন্থ গীতা ও রামায়ন। সাগরের ঘরে বিশাল সোফার পেছনে রয়েছে নমাজ পড়ার জায়গা৷

বলে রাখা ভালো, সাগর ত্রিপাঠি পরিবার রাম লীলা বিন্যাসের পৃষ্ঠপোষক, যারা অযোধ্যার রাম মন্দিরের ট্রাস্টি। কিন্তু ৬৮ বছর বয়সী সাগর ত্রিপাঠী এই পরিচয় মানেন না৷ অযোধ্যার পণ্ডিত পরিবারের একজন হয়ে বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন, এই প্রশ্নে অবশ্য তিনি কোনও মন্তব্য করেননি৷ কারণ তাঁর মত, এটা আদালতের বিচারাধীন বিষয়৷ তবে এখানেও তাঁর দাবি রাজনীতি যদি এই ইস্যু থেকে দূরে থাকে, তবে সমস্যার সমাধান সম্ভব৷

উত্তর প্রদেশের সুলনতাপুর জেলায় জন্ম হয় তাঁর৷ এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর পরিবার চাইছিল, তাদের ছেলে হবে সরকারি আধিকারিক৷ কিন্তু উর্দু কবি রঘুপতি সাহাই ফিরাকের প্রভাবে কবিজীবনই বেছে নেন সাগর ত্রিপাঠী।

----
--