টাকি বয়েজ স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হচ্ছেন এই লাস্যময়ী

ফাইল ছবি

সৌমেন শীল, কলকাতা: নাম: প্রীতি সেন গুপ্ত। ধাম: দেশের রাজধানী শহর দিল্লি। পেশা: অটিজম স্কুলের শিক্ষিকা। বছর ৩৫ এর এই মহিলাই কলকাতার টাকি হাউস গভর্নমেন্ট স্পনসরড মাল্টিপারপাজ বয়েজ হাই স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সবথেকে বড় চমক। রবিবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন- তাহলে হয়ে যাক!!

অবাক লাগছে? অবাক করার মতোই তথ্য। ছেলেদের স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হবেন একজন মহিলা? এটা ভেবে প্রথমে অবাক হয়েছিলেন খোদ অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথি সাহা।

- Advertisement -

বাগবাজারের বাসিন্দা প্রীতি সেনগুপ্ত কর্মসূত্রে এখন দিল্লিতে থাকেন। তাঁর ফেসবুকের ওয়াল জুড়ে রয়েছে একগুচ্ছ ছবি। কখনও চোখের আবেদনে কখনও আবার খোলা পিঠ দিয়ে তুলে ধরেছেন নিজের লাস্যময়ী সৌন্দর্য। পশ্চিমী পোশাকেও নিজেকে মেলে ধরেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

একইসঙ্গে সরস্বতী পুজোয় লালপার হলুদ শাড়ি এবং লাল পার সাদা শাড়িতে পুজোর ডালি হাতে নেওয়া ছবিও রয়েছে তাঁর। সবমিলিয়ে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সব ধরণের বৈশিষ্ট্যই রয়েছে প্রীতির মধ্যে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিপূর্ণ ভারতীয় তথা বাঙালি নারী কিভাবে একটি বয়েজ স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে পারে?

আরও পড়ুন- সত্যজিৎ রায়ের ছবির পোস্টার ‘টুকলি’ করে অস্কারে “নিউটন”

নিয়ম অনুসারে দিল্লি নিবাসী প্রীতি সেন গুপ্তের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে উত্তর কলকাতার জনপ্রিয় ওই স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হওয়ার। কারণ তিনি ওই স্কুলের প্রাক্তনী। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের রেকর্ড অনুসারে তিনি ১৯৯৭ সালে ওই স্কুল থেকেই মাধ্যমিক পাস করেছিলেন।

কলকাতার বয়েজ স্কুল থেকে পাশ করেছিলেন দিল্লির শিক্ষিকা প্রীতি! এই রহস্য ভেদ করেছেন টাকি হাউস গভর্নমেন্ট স্পনসরড মাল্টিপারপাজ বয়েজ হাই স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথি সাহা। তাঁর কথায়, “আমি ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করি টাকি স্কুল থেকে। পুরনোদের নিয়ে অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন চালু করা হয় ২০০৯ সালে। সেই অ্যাসোসিয়েশনে যুক্ত হওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ করে প্রীতি সেনগুপ্ত নামের এক মহিলা।”

আরও পড়ুন- ভাবতে পারেন! মাত্র ছয় দিনেই তৈরি হল বিশ্বের সবথেকে বড় দুর্গা

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেকেই যোগাযোগ করতে পারে। এটা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন পার্থ সারথি বাবু। কিন্তু, পরে একটা ফোন আসে। একটি মহিলা কণ্ঠ জানায় যে সে টাকি স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে আগ্রহী। “খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ছেলেদের স্কুলের অ্যালুমনিতে মেয়ে সদস্য হবে কি করে?” বললেন পার্থ সারথি সাহা।

এরপরে সেই মহিলা কণ্ঠ জানায় যে সে টাকি হাউস গভর্নমেন্ট স্পনসরড মাল্টিপারপাজ বয়েজ হাই স্কুলের প্রাক্তন পড়ুয়া। ওই স্কুল থেকেই ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন। বর্তমানে সে রুপান্তরকামী। খানিক বিলম্বে হলেও অবসান ঘটে সব জল্পনার। পার্থ সারথি সাহার মতে, “আমি বছর দুয়েকের বড় হলেও ওকে(প্রীতি) চিনতাম। স্কুল জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেভাবে অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল না। সমগ্র বিষয়টা জানার পর খুব গর্ব হচ্ছিল। রবিবার স্কুলেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রীতি সেন গুপ্তকে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ দেওয়া হবে।”

স্কুলে প্রীতি সেনগুপ্ত নাম ছিল না টাকি হাউস গভর্নমেন্ট স্পনসরড মাল্টিপারপাজ বয়েজ হাই স্কুলের এই প্রাক্তন পড়ুয়ার। তাহলে রুপান্তরের আগে কী নাম ছিল প্রীতি সেন গুপ্তের? এই প্রশ্নের জবাবে পার্থ বাবু হেসে বললেন, “এটা বলা বারণ আছে। ও(প্রীতি) আমাকে গোপন রাখতে বলেছে।”

দেশের প্রথম রুপান্তরকামী কলেজের অধ্যক্ষ, নির্বাচনের প্রিসাইডিং অফিসার, আদালতের বিচারক হয়েছেন এই বাংলা থেকেই। সেই তালিকায় এবার নয়া সংযোজন হল বয়েজ স্কুলের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রুপান্তরকামী প্রীতি সেন গুপ্ত।

Advertisement
---