এই কালী রক্ত চান না, রক্ত দেন….!

সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগেই ২৪৯ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যশালী নৃত্যকালী মাতার পুজোয় মেতেছে কলকাতা৷ আগামী বছর এই পুজো আড়াইশো বছরে পা দেবে৷ প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যায় এই পুজো হয়৷ আয়োজন করে শোভাবাজার বেনিয়াটোলা বারোয়ারি পূজা সংঘ৷ এই পুজোয় এক সময় পশুবলি হত৷ তবে সেই প্রথা বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহু যুগ আগে৷ তার পরিবর্তে এখন হয় রক্তদান শিবির৷ পূজাপ্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী মেলা বসে৷ সেইসঙ্গে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷

জনশ্রুতি যে, প্রায় আড়াইশো বছর আগে ভাগীরথী তীরে একজন শক্তিসাধিকা সন্নাসিনীর আবির্ভাব ঘটে৷ স্থানীয় মানুষের কাছে সন্নাসিনী মোহনটুনি নামে পরিচিত ছিলেন৷ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে যখন বাংলা দুর্ভিক্ষে পীড়িত তখন বহু মানুষ নাকি ওই সন্নাসিনীর আখড়ায় গিয়ে প্রার্থনা করতেন৷ সম্ভবত ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে মন্বন্তরের মধ্যেই মোহনটুনি মাতার নির্দেশে নাকি প্রথম নৃত্যকালী পূজার আয়োজন হয়৷

- Advertisement -

তাই ১১৭৭ বঙ্গাব্দের ভাদ্র মাসে এই নৃত্যকালী আরাধনার সূচনা হয়েছে ধরে নিয়ে প্রতি বছর কৌশিকী অমবস্যায় এই পূজো হয়ে আসছে৷ ধ্যানে সেই ভৈরবীর মনে যে মাতৃমূর্তির উদয় ঘটেছিল তারই বাস্তবরূপ নাকি এই নৃত্যকালী বিগ্রহ৷

পূজাসংঘের সভাপতি দ্বারিকানাথ দাঁ জানালেন, এক সময় নৃত্যকালী পুজার অঙ্গরূপে পশু বলিদান প্রথা প্রচলিত ছিল৷ শাস্ত্রীয় নির্দেশ অনুসারে ছাগ, মেষ, মহিষ বলিদান সহযোগে পূজা হত৷ কিন্তু ১৩১৪ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৯০৭-৮ সাল নাগাদ আধুনিক ব্রিটিশ অনুশাসন অনুসারে পশু বলি বন্ধ হয়৷ সংঘের সদস্য মৃগাঙ্ক দত্ত বলেন, এক সময় মায়ের সামনে পশু বলি দিয়ে সেই রক্ত মাকে নিবেদন করা হত৷ এখন মায়ের পুজো উপলক্ষে প্রতি বছর পূজাপ্রাঙ্গণে রক্তদান শিবিরের আয়োজন হয়৷ দান করা সেই রক্ত চলে যায় ব্লাড ব্যাংকে, মুমূর্ষুদের জন্য৷

Advertisement
---