সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ডায়েট। এই শব্দটা আগামী মাসের পাঁচটা দিন বাঙালির অভিধান থেকে উঠে যাবে। ঝালমুড়ি, ফুচকা, কোল্ড ড্রিঙ্কসের পাশাপাশি এগরোল, চাউমিন, বিরিয়ানি এই সবই থাকবে পুজোর ক’দিনের ডায়েটে। পাড়ার দোকান অথবা ঠাকুর দেখতে দেখতে রাস্তার ফুটপাতের স্টল থেকে যেমন খেয়ে নিতে পারেন তেমনই আবার বাড়িতে বসে অর্ডার করে অনলাইন ফুড-ডেলিভারি সংস্থার কাছ থেকে আনিয়ে নিতে পারেন৷ কারণ রাস্তার ফুডস্টলের মাঝে কোথাও জায়গা করে নিচ্ছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলি।

পুজোর পাঁচদিনই হেঁশেল বন্ধ। সমস্ত ডায়েট ভুলে পেট জুড়ে ফাস্ট ফুডের রমরমা। সেক্ষেত্রে এত বছর ‘পাড়ার ফুচকাওলা’, ‘জগা’দার রোল’, ‘বাট্টুর চাউমিন বা চিকেন বিরিয়ানি’এসব খেয়েই তো এতদিন প্রাণ জুড়িয়েছে। এই বছরেও সে সবের কমতি হবে না। তবে মহানগরের বাঙালি তো টেক স্যাভি হয়ে উঠেছে। তার সঙ্গে আলস্য কিংবা রাস্তার ভিড় এড়ানোর প্রবণতা তো রয়েছে। ফলে অনলাইন ফুডের দিকে ঝোঁকা অসম্ভব নয়৷ ইতিমধ্যেই জোম্যাটো, সুইগি, ফুড পান্ডা এবং উবের ইট পকেটের স্মার্টফোনে ঢুকে গিয়ে একেবারে সব সময় হাতের আঙুলের ডগায় এসে গিয়েছে।

পাড়ার সান্টুদা প্যান্ডেলের পাশের ফুড স্টল থেকে এগরোল চিকেন রোল খেয়েই খুশি। কিন্তু খোকনের পছন্দ অনলাইন ফুড। সেখানে ভেরাইটি অনেক বেশি। দামে ছাড় আছে। লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হয় না। সঙ্গে যখন খুশি তখন গরম গরম মনপসন্দ খাবার।সে চিকেন টিক্কা হোক কিংবা চিকেন হরিয়ালি, ব্যাম্বু বিরিয়ানী হোক বা রোগন জ্যুস সব এক ক্লিকেই বাড়িতে হাজির। কেন একই রোল, চটপটি খাবে?

জোম্যাটোর মার্কেটিং টিমের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বছর দুয়েক পুজোয় অনলাইন খাবারের বিক্রি তাদের অনেকটা বেড়েছে। এই বছর আরও বাড়তে পারে বলে আশা তাঁদের। ফুড পান্ডার কলকাতার মার্কেটিং প্রধান অগ্নি বলেন, “কলকাতায় আমাদের এখনও পুরো কভার করার মতো লোকবল নেই। লোক নেওয়া হবে। পুজোটা টার্গেট। ছাড় দেওয়া হবে বেশি। আমরা নিশ্চিত টেক স্যাভি কলকাতা আমাদের ব্যবসা বাড়াতে সাহায্য করবে। সেটা এই পুজো থেকেই হতে পারে।” সুইগির মার্কেটিং ম্যানেজার সুশান্ত সেন বলেন, “এখন সবসময় মানুষ অনলাইন অর্ডার দিয়ে খাবার খেতে পছন্দ করে। পুজোয় ওপেন ফুড স্টলের চাহিদা কমবে না বা রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার রেওয়াজ কমবে বলে মনে হয় না। কিন্তু অনলাইন ফুড একটা জায়গা জায়গা করে নেবে।” উবের ইট সবে তাদের অনলাইনে ফুড বিজনেস শুরু করেছে। তাদেরও টার্গেট পুজো।

অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলির দাবি তারা খাবারের গুনগত মান পরীক্ষা করে তবে খাবার দেন। মাংস কাণ্ডের পর সেটাও কিছুটা অনলাইন ফুড ডেলিভারির ব্যবসা বাড়াতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাগুলি।

কুঁড়ে বাঙালির যত খাটতে কম হয় ততই ভালো। ইন্টারনেটের যুগে এখন সেই হাওয়া বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষের গায়েই লেগেছে। তাই ঝটপট ঝালমুড়ির সঙ্গে এই পুজো অনলাইন ফুড চেনেরও হতে চলেছে তা বলা যেতেই পারে।

----
--