নয়াদিল্লি: দেশ জুড়ে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনায় এবার মুখ খুললেন দেশের উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু৷ গণপিটুনির কড়া নিন্দা করে তিনি বলেন, যারা এই ধরণের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তারা আর যাই হোক, জাতীয়তাবাদী বা দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারে না৷

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে নাইডু বলেন আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না কেউ৷ কোনও মানুষের সেই অধিকার নেই৷ শুধু প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে এই সব ঘটনার মোকাবিলা করা যাবে না৷ তাঁর মতে এরজন্য সামাজিক মনোভাবের বদল দরকার৷

Advertisement

উপরাষ্ট্রপতি বলেন শুধু পুলিশ নন, সাধারণ মানুষও এই ধরণের ঘটনা ঘটতে দেখলে রুখে দাঁড়ান৷ সমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই গণপিটুনির মত ঘটনা বন্ধ হবে বলে তাঁর আশা৷ পাশাপাশি, এই ধরণের গণপিটুনির ঘটনার রাজনীতিকরণেরও সমালোচনা করেন তিনি৷ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গণপিটুনির ঘটনা মিলিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেন ভেঙ্কাইয়া নাইডু৷

তবে তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, কোথাও কি নিজের দলকে ঢাকার চেষ্টা করছেন নাইডু? কারণ একের পর এক গণপিটুনির ঘটনায় বিজেপি সরকারেরই অস্বস্তি বেড়েছে৷ গোরক্ষার নামে গণপিটুনির ঘটনাগুলি বিজেপির দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে৷

তবে সেদিকে জোর না দিয়ে এদিন উপরাষ্ট্রপতি বলেন এই ধরণের ঘটনা রোখা কোনও নির্দিষ্ট দলের দায় নয়, মানুষের মধ্যে পরিবর্তন দরকার সবার আগে৷ যারা কোনও মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলে, তারা কীভাবে নিজেকে জাতীয়তাবাদী বলে দাবি করেন, প্রশ্ন তুলেছেন ভেঙ্কাইয়া নাইডু৷ ধর্মের নামে, জাতের নামে গণপিটুনি কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলেও মত তাঁর৷ অবিলম্বে এই ঘটনা বন্ধ হওয়ার দাবি করেছেন তিনি৷

এরআগে, সুপ্রিম কোর্টও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে৷ গোরক্ষার নামে গণপিটুনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজ্যগুলিকে আগেই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়েছিল রাজ্যগুলিকে৷ কিন্তু ২৯টি রাজ্যের মধ্যে মাত্র ১১টি রাজ্য ও সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রিপোর্ট জমা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় শীর্ষ আদালত৷ সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বাকি ১৮টি রাজ্যকে গণপিটুনি বন্ধ করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা রিপোর্ট আকারে পেশ করার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র৷

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি এ এম খাইলকর ও বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ শেষবারের মতো সময় দেয় ১৮টি রাজ্যকে৷ এক সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কড়া ভাবে জানিয়ে দেয় এর মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে না পারলে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে আদালতে সশরীরে হাজির হতে হবে৷

----
--