সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বাঙালির প্রানের পুজো দুর্গোৎসব। এই উৎসব সারা বিশ্বে যত বাঙালি রয়েছে প্রত্যেকের। কিন্তু কোথাও যেন সেই পুজো সবার হয়ে ওঠে না। কিছু নির্দিষ্ট পেশার মানুষের ক্ষেত্রে পুজো কাটে শুধুমাত্র শহরের সমস্ত মানুষের পরিষেবা দিয়ে।

পুলিশ, ডাক্তার, রেল ও মেট্রো রেল কর্মী এবং সাংবাদিক। এদের কারোর পুজো কাটে পুজোর ভিড় সামলে। কারোর পুজো কাটে অসুখ সারিয়ে। অনেকের পুজো কাটে আবার টেলিভিশনের পর্দায় খবর পরিবেশন করে। হয়তো পরে সেই ছুটি পেয়ে যান। কিন্তু প্রানের উৎসব?

Advertisement

সে তো বছরে একবারই আসে। বছর ঘোরে, আবারও কুমোরপাড়ায় মৃন্ময়ীকে চিন্ময়ী করে তোলার কাজ শুরু হয়। আলোর রোশনাই, ঢাক, কাঁসর, অষ্টমীর পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধি পুজো, ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ বলে আবার শেষ আরও একটা পুজো। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলে যায় কিন্তু ওঁদের পুজো কাটে সবার কথা ভেবে। পরিবার পরিজন ভুলে এভাবেই কাটে দুর্গোৎসব। পরিবারও কোথাও মানিয়ে নেয় পরিস্থিতির সঙ্গে।

বিগত কয়েক বছরে পুজোর আগে সবথেকে বড় সমস্যা ডেঙ্গু। মশাবাহিত এই রোগ প্রত্যেক বছরই মানুষের প্রাণ কাড়ছে। আক্রান্ত হয়ে অনেকেরই পুজো কাটে মশারির ভিতরে। তখনই দরকার পড়ে চিকিৎসকদের। ডাঃ বিল্পব চন্দ্র বলেন, “গত কয়েক বছরে আমার পুজোর অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। লাইন দিয়ে মানুষ হাসপাতালে ভরতি হচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। এখন এদের ছেড়ে আমি কি করে যাই ঠাকুর দেখতে। আমার মনে হয় উৎসবটা যতক্ষণ না সবার হয় ততক্ষণ সে উৎসবের আড়ম্বর একটু কমা ভালো। আমার সামাজিক কর্তব্য মানুষের সেবা করা।

কিন্তু যে মানুষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ল তাঁদের পুজোটা ভালো করে তুলতে সবার উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।” হাওড়ার ট্রাফিক ডিসি অশোক নাথ বলেন, “আমাদের পরিবার এটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। আমরাও মেনে নিয়েছি। সবকিছু জেনেই তো পেশায় এসেছি। সরকার তো সারা বছর আমাদের অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়। একটু না হয় রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করলাম।”

রেল ইঞ্জিনিয়ার ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ছুটি নিয়ে নিলাম। ঠিক সেই দিনেই কোনও একটা ট্রেনের কোনও যন্ত্রাংশ খারাপ হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে গেল। নিজেকে ক্ষমা করা মুশকিল হবে। বছরের বিভিন্ন সময়ে আমরা ছুটি পাই। রেলের অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকি। আর্থিক দিক থেকে কোনও ত্রুটি থাকে না। রেল পাবলিক সেক্টর। সার্ভিসটা দেওয়া উচিৎ।”

আগে পুজোয় ছুটি থাকলেও ৯০’এর দশক থেকে খবরের কাগজগুলি পুজোয় ছুটি বন্ধ করে সাংবাদিকদের। পরে ইলেকট্রনিক মিডিয়া যত ক্ষমতাবান হয়েছে পুজোর আনন্দ তত মাটি হয়েছে সাংবাদিকদের। সাংবাদিক সুজয় পাল বলেন, “পুজোটা ভালো কাটে না আমাদের। বড় পুজো ভিড় ছাড়া দেখতে পাই বটে কিন্তু কোথাও বন্ধু, পরিবারের সঙ্গে পুজো উপভোগ করাটা মিস করি। এখন অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।”

আরও একটা পুজো সামনে। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওঁদের পুজো কাটবে সেই বাকিদের স্বার্থে

----
--