ইসলামাবাদ: বিদ্রোহী বিরোধী ধাক্কায় সরকার গড়ার স্বপ্ন থমকে যাচ্ছে৷ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এখনো ওয়েটিং লিস্টেই রয়েছেন ইমরান খান৷ জাতীয় নির্বাচনের ২৭০টি আসনের মধ্যে ১১৪টি আসনে জয়ী হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরেই কিং খানের দল পিটিআই৷ ফলে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৩৭টি আসনের জন্য নির্দলদের সাহায্য নিতেই হবে৷ যে ২৩টি আসনের ঘাটতি রয়েছে সেটা পূরণে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন ইমারানের ক্রাইসিস ম্যানেজাররা৷

নির্বাচনের পর এমন অভূতপূর্ব ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি৷ এদিকে বিরোধীদের মধ্যে প্রধান তিন দল পিএমএল(এন), পিপিপি এবং এমকিউএম নেতৃত্ব যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে দিলেন- নির্বাচনে চরম রিগিং হয়েছে৷ এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোট নেওয়া হোক৷ বিরোধীদের সম্মিলিত শক্তির এমন আওয়াজ দেখেনি পাকিস্তানিরা৷

এদিকে ডন, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, দি নেশন, জিও টিভি সহ একাধিক পাক সংবাদ মাধ্যমের খবর নতুন সরকার গড়তে প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে তেহরিক ই ইনসাফ৷ ইসলামাবাদে দলীয় কার্যালয়ে ইমরান খান নিজে এই উদ্যোগ নিয়েছেন৷ তিনি বিভিন্ন ছোট দলের সঙ্গে কথা বলেছেন৷ জানা গিয়েছে, বিরোধী দলগুলির গোষ্ঠী রাজনীতিকে হাতিয়ার করা হয়েছে৷ সেই সব দলের বিভিন্ন বিক্ষুব্ধ নেতৃত্বকে সরকারে আসার জন্য টোপ দেওয়া হয়েছে৷

সদ্য ক্ষমতা হারানো পিএমএল(এন) দলের আসন প্রাপ্তির সংখ্যা ৬২ আর অপর প্রতিদ্বন্দ্বী দল পিপিপির দখলে গিয়েছে ৪২টি আসন৷ এর পরেই থাকছে মুত্তাহিদা মজলিশ এ আমল এবং নির্দলরা৷ তাদের প্রত্যেকের দখলে ১২টি করে আসন৷ মুত্তাহিদা কউমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) পেয়েছে ৬টি আসন৷ ক্রমান্বয়ে বাকিরা রয়েছে এরপর৷ ফলে জোট রাজনীতির সূত্র মানলে বিরোধীরা একযোগে হলেই সরকার গড়া অসম্ভব ইমরান খানের পক্ষে৷ এই তত্ত্ব মেনেই বিরোধী নেতৃত্ব নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছেন৷

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকার গঠন করতে না পারলে ফের একবার সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে৷ পাকিস্তান ফের চলে যেতে পারে সামরিক শাসনের কব্জায়৷

----
--