প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের সাজা মকুব, বিক্ষোভে উত্তপ্ত পেরু

লিমা: ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পেরু৷ কারাবন্দি প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির সাজা মকুব করে তাকে ক্ষমা ঘোষণার পর বিক্ষোভ -সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে পেরুর রাস্তায়।

বড়দিনের আগের রাতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠার পর সোমবার রাজধানী লিমায় ফের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। ‘ক্ষমা নয়’ স্লোগান তোলা আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। পেরুর বর্তমান প্রেসিডেন্ট পাবলো কুকজিনস্কি বড়দিনের আগে কারাবন্দি ফুজিমোরিকে ক্ষমা ঘোষণা করলে তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায় হাজারো মানুষ।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড ভোগ করা ফুজিমোরিকে রবিবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ৭৯ বছর বয়সী প্রাক্তন এই প্রেসি়ডেন্ট উচ্চ রক্তচাপ এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যায় ভুগছেন।

কারাগারের পরিবেশ প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা৷ তারপরেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট৷ “মানবিক কারণে আলবার্তো ফুজিমোরিকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও ৭ জনকেও একই কারণে ক্ষমা করা হচ্ছে,” বলে জানায় কুকজিনস্কির দফতর৷ তবে ওই সাত জনের নাম জানানো হয়নি।

সোমবার টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করে ফুজিমোরির ছেলে তার বাবার ক্ষমা পাওয়ার খবর জানানোর পরেই লিমায় বিক্ষোভ-সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেন তার দলের দুই সদস্যও।

১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফুজিমোরি। ২০০৭ সালে ঘুষ নেওয়া ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তিনি প্রথম দোষী সাব্যস্ত হন, সেবার ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল তার। দু বছর পর ২০০৯ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২৫ বছরের কারাদণ্ড হয় ফুজিমোরির।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট কুকজিনস্কি নিজের পদ ধরে রাখতেই ফুজিমোরিকে ক্ষমা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷ কুকজিনস্কি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফুজিমোরিকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্তে কড়া বিরোধীতা করেছে, মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ও।

-------
----