বিষধর সাপ নিয়ে তিনদিনের ঝাপান উৎসব

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বিষধর সাপেদের নিয়ে বছরের তিনটে দিন উৎসবে মেতে থাকেন বাঁকুড়ার সিমলাপালের দুবরাজপুর গ্রামের মানুষ। শ্রাবণ সংক্রান্তির মনসা পুজো উপলক্ষে বিষধর সাপ নিয়ে এই প্রাচীন লোক উৎসব ‘ঝাপান’ নামেই পরিচিত।

তিন দিনের এই উৎসবে মনসা মঙ্গলের গান গাওয়ার সঙ্গে বিষধর সব সাপ দেখতে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। সেই সময় তিল ধারণের জায়গা থাকে না গ্রামের শিব মন্দির চত্ত্বরে।

আরও পড়ুন: আর চিন্তা নেই, এবার ১০০ জিবি ডেটা একেবারে ফ্রি

- Advertisement -

উল্লেখ্য, প্রাচীন প্রথা মেনে এই বছরও প্রায় একশো বছরের পুরনো ঝাপান উৎসবে যোগ দেন গ্রামের মানুষেরা। যদিও প্রশাসনের তরফে সাপ নিয়ে এই ধরনের খেলা দেখানোর উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ তবে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই প্রথা ছেড়ে বেরোতে চাইছেন না অনেকেই।

এদিন স্থানীয় শিব মন্দিরে সাতটি বিষধর সাপ নিয়ে ঝাপান উৎসবে অংশ নেন এলাকার সাপুড়েরা। তবে ঝাপান উৎসব শুধু সাপ খেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সেই সঙ্গে বিষধর সাপ নিয়ে মারণ খেলাও বলা যেতে পারে। হাজার হাজার দর্শকের সামনে সাপুড়েরা তাদের জিভে বা হাতের আঙুলে অনেক সময়ই সাপের কামড় খান। তাছাড়াও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সারা শরীরে অজস্র সাপ জড়িয়ে খেলার মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করা তো রয়েছেই।

আরও পড়ুন: ‘অটলজি খুব ভালো রান্না করতেন’

প্রসঙ্গত, প্রশাসনের তরফে সাপ নিয়ে এই ধরনের খেলা দেখানোর উপর নিষেধাজ্ঞা আগেভাগেই রয়েছে। তারপরেও সাপ ধরে খেলা দেখাচ্ছেন? এই প্রশ্ন সাপুড়েদের কাছে রাখতেই তাঁদের স্পষ্ট জবাব, এই ধরনের কোনও সরকারি নির্দেশ তাঁরা পাননি।

একই সঙ্গে সাপুড়ে বিশ্বনাথ পাল, নিমাই পাল জানিয়েছেন, তিন মাস আগে থেকে ধরে রাখা হয় এই সব সাপদের৷ তবে তিন দিনের ঝাপান উৎসবের শেষে আবার ছেড়েও দেওয়া হয় সাপদের। কোনও ক্ষতি তো করা হয়না। এভাবেই তাঁরা এই প্রাচীন প্রথা চালিয়ে যেতে চায়।

আরও পড়ুন: উত্তরপ্রদেশে ফের গোরু পাচারকারী সন্দেহে পিটিয়ে মার দুই জনকে

তবে সাপুড়েরা যাই বলুক, সব জেনেশুনে এই বিষয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাহলে কি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক আধিকারিকরাও এই বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ওয়াকিবহাল নন? এখন এই প্রশ্নই ঘুরে ফিরে উঠছে বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের মানুষদের মনে।

সিমলাপাল দুবরাজপুর ঝাপান উৎসবের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সাপুড়ে অজয় মহন্ত বলেন, ‘‘প্রাচীন এই উৎসব আমরা এখনও চালিয়ে যাচ্ছি। টানা তিনদিন উপবাসের মধ্য দিয়ে আমরা সাপের খেলা দেখাই। ঝাপান উৎসব শেষে সব সাপ আবারও জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়৷’’

আরও পড়ুন: অটল-শোক শেষ হলেই বিজেপির বিরুদ্ধে মামলা করবে তৃণমূল

Advertisement ---
---
-----