চিড়িয়াখানায় জন্ম নিল বিপন্ন প্রজাতির তিন প্রাণী

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : আরও তিন পশুর জন্ম চিড়িয়াখানায়। শীতের মরসুমে ১৩ টি নতুন পশু এনে তাক লাগিয়েছিল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এবার একের পর এক পশুর প্রজনন ঘটিয়ে নতুন নজিরের পথে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। জেবরা, মনিপুরি হরিণের সঙ্গে দলে যোগ দিয়েছে বাঘরোল।

পশ্চিমবঙ্গের ‘রাজ্য প্রাণী’ বাঘরোল বা ফিশিং ক্যাট৷ উচ্চতা বিড়ালের থেকে বেশি৷ গায়ে ছোপ ছোপ দাগ৷ জাতীয় পশু হিসেবে বাঘের নাম যতটা আলোচিত হয়, রাজ্য প্রাণী হিসেবে বাঘরোল তত চর্চিত নয়৷ রাজ্য প্রাণী হিসেবে যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সেই বাঘরোল এখন ‘বিপন্ন’ তালিকাভুক্ত৷ ‘বিপন্ন তালিকাভুক্ত’ তিন শিশু বাঘরোলের জন্ম হয়েছে চিড়িয়াখানায়। গণ্ডারের খাঁচা থেকে ডান দিকে এগিয়ে গেলেই দেখা মিলবে বাঘরোলের। হালকা ঠাণ্ডার আমেজে তিন নতুন অতিথিকে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেরাতে দেখা যাবে।

বাঘ নয়, আবার বাঘের মাসিও নয়। দুয়ের এক মিশ্রণ বাঘরোল। গত বছরেই এই প্রাণীর জন্য ‘বাঘরোল সুরক্ষা কমিটি’ গড়ার ডাক দেয় রাজ্য বন দফতর। কারণ খোলা পরিবেশে এদের উপর অত্যাচার বেড়েছে। কিন্তু এই বন্যেরা সুখেই রয়েছে খাঁচার মধ্যেই। বিরক্ত করার কেউ নেই। টাইম টু টাইম খাবারও রয়েছে। চিড়িয়াখানার চিকিৎসক শিবাজি ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরেই বাঘরোলের প্রজনন ঘটানোর চেষ্টা করছিলাম। শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছি।” চিড়িয়াখানায় তিন জোড়া বাঘরোল রয়েছে। এই তিন জোড়াই একটি করে শিশু বাঘরোলের জন্ম দিয়েছে। সবমিলিয়ে বর্তমানে চিড়িয়াখানায় বাঘরোলের সংখ্যা ৯।

- Advertisement -

ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, কাম্বোডিয়া-সহ মোট ১১টি দেশে বাঘরোল বা ফিশিং ক্যাটের সন্ধান পাওয়া গেলেও এর আদি বাসস্থান এই বাংলাই৷ হাওড়া জেলার আমতা ২ নং ব্লকের কামারখালি, ঝামটিয়া, খাজুরদহ, সাঁউড়িয়া, কুশবেড়িয়া, শিরোল, নারিট, তাজপুর, মহিষামুড়ি,সারদা-সহ বিভিন্ন গ্রামে দেখা মেলে বাঘরোলের৷ পৃথিবীর ১১টা দেশে বাঘরোল বা ফিশিং ক্যাটের সন্ধান মিললেও তাদের সংখ্যা কমতে কমতে এখন মাত্র তিন হাজারের আশপাশে এসে দাঁড়িয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে মূলত হাওড়াতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বাঘরোল৷

নতুন পশু ও সদ্যজাতের ভিড়ে জমজমাট চিড়িয়াখানা। সঙ্গে এখন আবার ডিজিটাল চিরিয়াখানায় প্রবেশের ফলে টিকিট কাটার ঝক্কি কম। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ফাকা জায়গা নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এসব স্থানে নতুন আরও কোনও প্রাণী আসতেই পারে। তাছাড়া মে মাসেই আসছে অ্যানাকোন্ডা। সবমিলিয়ে গ্রীষ্ম থেকে শীত সব মরসুমে দর্শক টানার জন্য যে তৈরি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তা স্পষ্ট।

Advertisement ---
---
-----