শহরে ফাঁস মাদক ব়্যাকেট, গ্রেফতার ডি জে সহ ৩

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার নিষিদ্ধ মাদক বাজেয়াপ্ত করল নারকোটিক্স কনট্রোল বুব়্যে৷ ঘটনায় কলকাতার এক ডি জে সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ ধৃতদের জেরা করে মাদকচক্রের বাকিদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা করছেন নারকোটিক্সের কর্তারা৷

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন বিগ বাজারের সামনে থেকে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে নারকোটিক্স কনট্রোল বুব়্যে (এনসিআরবি)৷ এনসিআরবি সূত্রের খবর, ধৃতরা হল- রর্বাট ডিক্সণ, হেনরি লকেন্স মান্না ওরফে পোড্রো ও  ডি জে নিখিল লাখওয়ামি ওরফে ডি জে নিখিল৷ এদের ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২ কেজিরও বেশি নামী মাদক ‘মানালা হাসিস’ বাজেয়াপ্ত করেন এনসিআরবি-র কর্তারা৷ যার বাজার মূল্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা৷ এছাড়াও ঘটনার পর হেনরি লরেন্সের বেনিয়াপুকুরের বাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে কিচেন থেকে ৪৫০ গ্রাম মাদক উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা৷ অন্যদিকে রর্বাটের বাড়ি বালিগঞ্জে৷

এনসিআরবি-র কর্তারা জানান, পার্ক স্ট্রিটের একটি নামকরা পানশালার নাইট ক্লাবের ডি জে নিখিল৷ সে ডিজের আড়ালে শহরের একাধিক নামী পানশালা, রেঁস্তোরায় এই মাদক সরবরাহ করত৷ রর্বাট ও হেনরির মাধ্যমেই সে হিমাচল প্রদেশ থেকে কলকাতায় মাদক আনতো৷ জেরায় নিখিল গোয়েন্দাদের কাছে স্বীকার করেছে, ‘মানালি হাসিস’রে দাম ভীষণ আকাশছোঁয়া৷ ১০ গ্রামের দাম প্রায় ৬ হাজার টাকা৷ ক্রিসমাসের মতো বড় বড় অনুষ্ঠানের সময় এই মানালা হাসিস গ্রাম পিছু ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হত৷

- Advertisement -

শহরে ক্রিসমাস পার্টিকে কেন্দ্র করে হিমাচল প্রদেশের কুলু থেকে আনা হচ্ছিল ওই নিষিদ্ধ মাদক৷ গোপন সূত্রে সেই খবর জানতে পারেন নারকোটিক্স কর্তারা৷ জেরায় নারকোটিক্স কর্তারা জানতে পেরেছেন, ক্রিসমাসের পার্টি উপলক্ষ্যে কলকাতার একাধিক বার ও হোটেলে ওই মাদক সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের৷ এমনকি শহরের কিছু আভিজাত এলাকার বহুতলেও ওই মাদক পাঠানোর কথা ছিল৷ তাতে বিনোদন জগতের একাধিক জনেরও নাম জড়াচ্ছে৷ গোয়েন্দার পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন৷

এনসিআরবি-র জয়েন্ট ডিরেক্টর (ইর্স্টান জোন) দিলীপ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই তিনজনকে মাদক সহ গ্রেফতার করা হয়েছে৷ চক্রের বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে৷’’

Advertisement ---
---
-----