তমলুক: আগামী ৫ ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষারত্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। এবছর সেই শিক্ষারত্ন পুরস্কার পাচ্ছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তিন কৃতী শিক্ষক-শিক্ষিকা।

আরও পড়ুন- নাবালিকাকে পাচার করতে গিয়ে গ্রেফতার মহম্মদ-রাম

এই কৃতীরা হলেন হলদিয়া পুনর্বাসন বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার জানা, দক্ষিণ ময়না ২ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুন কুমার ভৌমিক এবং নারানদা নিউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা দূর্গারানী দে।

আগামী ৫ ই সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কলকাতায় নজরুল মঞ্চে শিক্ষারত্ন সম্মান জানানো হবে। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে আমন্ত্রণ পত্র এসে পৌঁছেছে। আমন্ত্রণ পত্র হাতে পেয়ে খুশি শিক্ষক শিক্ষিকাগন। তপন কুমার জানা মহিষাদলের বাসিন্দা। তিনি গত ১০ বছর ধরে হলদিয়া পুনর্বাসন বিদ্যা নিকেতনে প্রধান শিক্ষকের পদ সামলিয়ে চলেছেন।

স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক- শিক্ষিকাদের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের সাথে সু-সম্পর্ক, স্কুলে সুন্দর পঠনপাঠনে পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি নানা সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত থেকে সমাজ ও স্কুলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাঁকে শিক্ষারত্ন পুরস্কারে সম্মানিত করা হচ্ছে।

অরুনকুমার ভৌমিক ময়নার বাসিন্দা। তিনি গত ২৬ বছর ধরে দক্ষিণ ময়না ২ নম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ সামলিয়ে চলেছেন। ছাত্রছাত্রীদের সাথে বন্ধুর মত মেলামেশা করে স্কুলের উন্নয়নের পাশাপাশি পঠনপাঠনে উন্নয়ন ঘটিয়েছেন৷ শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সমাজ সেবামূলক কাজের সাথে যুক্ত থেকে রক্তদান শিবির, স্বচ্ছ বাংলা গড়ে তোলার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি তিনি সাহিত্য চর্চা ও অভিনয়েও দক্ষ। তিনি বেশ কয়েকটি ছড়া ও কবিতার বই প্রকাশ করেছেন।লেখালেখি ও অভিনয়ের জন্য একাধিকবার বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাহার এই কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে এই সম্মানে সম্মানিত করা হচ্ছে।

দূর্গারানী দে বাঁকুড়ার বাসিন্দা হলেও স্বামীর কর্মসূত্রে পাঁশকুড়ার নারানদা নিউ প্রাথমিক স্কুলে যোগদান করা। গত ২২ বছর ধরে বাঁকুড়া জেলায় শিক্ষকতা করলেও গত ১০ বছর সহ শিক্ষিকা হিসাবে যোগদান করেছেন নারানদা নিউ প্রাথমিক স্কুলে। শিক্ষা দানের পাশাপাশি স্কুলের পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পাশে থেকে তাদের পড়াশোনার অতিরিক্ত যত্ন নিয়ে থাকেন।

স্কুলের পঠনপাঠনের পাশাপাশি এলাকার মানুষজনকে সচেতন করতে বাড়ি বাড়ি শৌচালয় বসানোর জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।তাহার চেষ্টায় এলাকায় বাড়ি বাড়ি শৌচালয় বসানোর কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। এই তিন কৃতী শিক্ষক- শিক্ষিকার সম্মানে ভীষণভাবে খুশি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে ছাত্রছাত্রীরা।

----
--