ফাইল ছবি

গৌতমী সেনগুপ্ত, কলকাতা: চোখের তলায় গাঢ় কালি৷ শীর্ণ দেহে উঠে দাঁড়াতেও কষ্ট৷ তাও অনশনরত অরিজিৎ ঘোষ উঠলেন৷ তাঁর খালি পেট ১৩ দিনের কম, তাই হয়ত গলা দিয়ে তীব্র আওয়াজটা বেরোচ্ছে৷ গন কনভেনশনে খালি পেটেই কন্ঠ চড়ালেন অরিজিৎ৷ জানালেন- শেষ পর্যন্ত লড়ব৷ কোথাও যেন প্রশাসনের কানকে শুনতে বাধ্য করালেন অরিজিৎ৷

১৩ দিনের অনশন সত্যিই কি এতটাই সহজ? এক কথায়, না৷ কোনওভাবেই না৷ তাও অরিজিতরা নির্বিকার৷ যেমন নির্বিকার কনভেনশন হলের বাইরে শুয়ে থাকা অনশনরত বাকি পড়ুয়ারা৷ মাথায় ছাদটাই তো চায়৷ অরিজিতের গলা এই কথা বলতে বলতেই ভিজে গেল৷ চোখ ঠিকরে বেরোল রাগ,কষ্ট, মেডিক্যালের প্রতি অবাধ ভালোবাসা৷ অরিজিৎ কনভেনশনের কয়েকশো লোকের উপস্থিতিতে বলে উঠলেন- ‘আমরা থামব না৷ প্রশাসন দেখুক আমকা কিভাবে আন্দোলন চালাই৷’

Advertisement

রবিবারের কনভেনশন ছিল গণ বিপ্লবের মঞ্চ৷ যা হয়ত মেডিক্যালের পড়ুয়াদের একার লড়াই নয়৷ লড়াইটা নিমেষেই হয়ে ওঠে উপস্থি নাগরিকদের, আপামর শহরবাসীর৷ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অরিজিতদের মায়ের বয়সী অনেক মহিলা, যারা বলে উঠলেন -‘আমরাও অনশন করব,তোরা তিন্তা করিস না’৷ অরিজিৎ চোখ তখনও জ্বল জ্বল৷ আশার একরাশ ডানা উড়ে বেরাচ্ছে, তাও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য না দেখিয়ে অনশনকেই বেছে নিচ্ছে৷ কনভেনশনে আসা প্রত্যেকে যখন বলছেন- ‘প্রিন্সিপালে ঘেরাও করা হোক, তাঁকেও অনশনে বাধ্য করা হোক৷ ’ তখনও দামাল অরিজিতরা নিজেদের পেটকে খালি রাখাতেই ব্রতী হোলেন৷

জানা নেই পথ৷ ছাত্রাবাসের দাবি কি সত্যিই বড়সড় দাবি? প্রশ্ন সমাবেশে আসা প্রত্যেকের৷ মঞ্চটা যেন হয়ে ওঠে সামাজিক মানুষের৷ যাদের প্রত্যেকের দাবি, এই অরিজিতরাই পথ দেখাবে, আর সমাজ চলবে৷

ছবি- মিতুল দাস

----
--