স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: কোথাও আতঙ্ক, কোথাও বা উচ্ছ্বাস। ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের জেরে দিঘায় তৈরি হল উৎসব আবহ। পাশাপাশি তাজপুর ও শঙ্করপুরে সমুদ্রের রুদ্ররূপে আতঙ্কিত হয়ে উঠলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিন তিনেক আগেই আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাস দিয়েছিল৷ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশার গোপালপুর সৈকতে ঘূর্ণিঝড় তিতলি আছড়ে পড়ে৷ সেই বার্তাও দিয়েছিল হাওয়া অফিস৷

Advertisement

সতর্কতা জারি করা হয়েছিল দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণির উপকূলে। তিতলির প্রভাবেই বুধবার সকাল থেকেই উপকূল জুড়ে শুরু হয়েছিল প্রবল বৃষ্টি। রাতভর বৃষ্টির সঙ্গে সমুদ্রে শুরু হয়েছিল জলোচ্ছ্বাস। রাতের পর আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে সমুদ্র।

বৃহস্পতিবার ৬ টা নাগাদ গোপালপুরে শক্তি প্রদর্শন করে তিতলি। শুরু হয় প্রবল জলোচ্ছ্বাস। গার্ডওয়ালে ধাক্কা খেয়ে সমুদ্রের জল ছাপিয়ে যেতে শুরু করে সৈকতের রাস্তায়। আর গার্ডওয়ালের ধারে দাঁড়িয়ে সেই জলে ভিজে মজা নিলেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দারাও। আতঙ্ক দূরে সরিয়ে রীতিমতো তিতলি উৎসবে মাতল দিঘা। সমুদ্র স্নানে নামতে না পারলেও দিঘায় তিতলির কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্বস্তিই পেয়েছেন বেলঘরিয়ার বাসিন্দা শক্তিপদ জানা ও তাঁর পরিবার।

শক্তিপদ বাবু বলেন, দিনভর আকাশ জুড়ে কালো মেঘের ঘনঘটা। সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টিও। সেই সঙ্গে উত্তাল সমুদ্র সত্যিই মন ভরিয়ে দিয়েছে আমাদের। শক্তিপদ বাবুর মেয়ে সায়নীর কথায়, এমন দৃশ্য খুবই বিরল। বৃষ্টির কারণে আটকে না পড়লে অদেখাই থেকে যেত এমন দৃশ্য।

একইভাবে তিতলির জেরে সমুদ্র কী আকার নেয় তা দেখার কৌতূহলে বহু পর্যটক ভিড় জমিয়ে ছিলেন দিঘায়। কিন্তু নুলিয়া-পুলিশের রয়েছে কড়া নজরদারি৷ তাই সমুদ্রে নামতে না পারার কারণে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে অনেককে। আর এই কড়া নজরদারির কারণে এদিন দিঘায় কোনও বিপর্যয় ঘটেনি বলে জানিয়েছেন কাঁথির অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু।

 

তবে রয়েছে চাপা আতঙ্কও৷ তিতলির দাপটে দিনভর বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঘুম ছুটেছে তাজপুর, শঙ্করপুর উপকূলের জামড়াশ্যামপুর, জলধা, চাঁদপুর এলাকাবাসীর৷ বুধবার রাত থেকে সেচ দফতরের তৈরি প্রোটেকশন বাঁধ পেরিয়ে সমুদ্রের জল ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে ফের জোয়ারের সময় ফুঁসে ওঠে সমুদ্র। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি, রামনগর ১ ব্লকের বিডিও আশিস রায়, স্থানীয় তালগাছাড়ি ২ পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ জানা–সহ ব্লক প্রশাসনের কর্মীরা।

বিধায়ক অখিল গিরি জানান, প্রোটেকশন বাঁধের জন্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বাঁধ মেরামতির কাজ অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান বিডিও আশিস রায়। কয়েকটি বাড়িতে জল ঢুকলেও বাসিন্দাদের কাউকে সরিয়ে আনতে হয়নি সাইক্লোন সেন্টারে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে তিনি জানিয়েছেন৷

----
--