স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: মনোনয়ন পর্ব থেকে শুরু হওয়া হিংসা অব্যাহত রইল গণনার সময়ও৷ এবার সেই হিংসা গড়াল খুনোখুনিতে৷ এবার ঘটনাস্থল আলিপুরদুয়ার৷ বিজেপির অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে প্রদীপ দাস (৬২) নামে তাদের এক সদস্য খুন করা হয়েছে৷

বিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসই জড়িত৷ যদিও শাসক দলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে৷

Advertisement

এদিকে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা সদরের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহরায়। তিনি বলেন,“মাঝেরডাবরি এলাকায় পুলিশের আধিকারিকরা রয়েছেন। আমরা গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।”

বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারের জেলা সদর সংলগ্ন শামুকতলা থানার অর্ন্তগত দক্ষিণ মাঝেরডাবরি এলাকায়। বিজেপি-র জেলা সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, “নির্বাচনে ১১/২৪৯ নম্বর বুথে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। এরপরেই রাতভর মাঝেরডাবরি গ্রামে তাণ্ডব চলে শাসকদলের। বিজেপি কর্মীদের বাড়ি চিহ্নিত করে মারধর করা হয়। কুপিয়ে কুপিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গোটা গ্রাম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।”

আর সেই হামলাতেই প্রদীপবাবু খুন হন বলে অভিযোগ জয়ন্ত রায়ের৷ তিনি বলেন, ‘‘স্থানীয়স্তরে আমাদের জানানো হয় লোহার রড, কাঠের বাটাম-সহ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ১০-১২ জন স্থানীয় ও বহিরাগত দুষ্কৃতী প্রদীপ দাসের উপর হামলা করে। তাঁর মাথায় ভারি কিছু দিয়ে মারলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন৷ তাঁকে উদ্ধার করে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হলে শুক্রবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।’’

অন্যদিকে বিজেপি-র জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, “খুনের ঘটনার রিপোর্ট দিল্লি ও কলকাতার নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মোহন শর্মা তাঁর দলের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তাঁর পাল্টা দাবি, “প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি ব্যাক্তিগত রেষারেষির জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে দলের কোন কর্মী-সমর্থক জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে।”

----
--