পুরসভায় পিস্তল হাতে তৃণমূল কাউন্সিলারের ছবি ঘিরে বিতর্ক

পূর্ব বর্ধমান: পুরসভায় নিজের চেয়ারে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বসে রয়েছে কাউন্সিলার। তাঁর আশেপাশে রয়েছেন পুরসভার অন্যান্য কাউন্সিলারেরা। পিস্তল হাতে নিয়ে নিজের এভাবেই ‘দাবাং’ ভাবমূর্তি জাহির করছেন শাসকদলের পুর প্রতিনিধি।

সম্প্রতি এমনই একটি ছবি আপলোড করা হয়েছে ফেসবুকে। যেখানে দেখা যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। ছবিটি অবশ্য ফেসবুকে দিয়েছেন পুরসভার কাউন্সিলার মল্লিকা চোঙদার। তিনিও শাসক তৃণমূল কংগ্রেসরই প্রতিনিধি। এই ছবি ঘিরেই ফের শুরু হয়েছে গুসকরা পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি।

গুসকরা পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধ করতে কখনও মুকুল রায়কে মাঠে নামতে হয়েছে, আবার কখন মাঠে নামতে হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। গোষ্ঠীর মাথাদের কখনও কখনও গোষ্ঠী পরিবর্তন করতে দেখা গেলেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখনও বন্ধ হয়নি গুসকরায়। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী নিজে ক্ষোভ প্রকাশ করে গুসকরার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বন্ধের জন্য বলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সবপক্ষকে ডেকে নিয়ে কলকাতায় বৈঠকও করেছেন নেতারা। কিন্তু অবস্থার যে কোনও পরিবর্তন হয়নি এই ঘটনা থকেই আবার তা পরিষ্কার হয়ে গেল।

কাউন্সিলার নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় এবং মল্লিকা চোঙদার তৃণমূলের পরস্পর বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্য বলেই পরিচিত। ছবিটি ফেসবুকে দিয়ে মল্লিকা চোঙদার লেখেন, “তিন নম্বর ওয়ার্ড এর তৃণমূলের কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চ্যাটার্জী মিউনিসিপ্যালিটি র ভিতরে বন্দুক নিয়ে ঘুরছে। এ কোন আজব জায়গা। আপনারা দেখুন ।।।।।” এই ছবি আপলোডের কারণে তাঁকে দাবাং নিত্যানন্দের রোষানলে পড়তে হতে পারে। সেই আশঙ্কাও ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন মল্লিকা দেবী।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় স্বভাবতই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। কাউন্সিলার মল্লিকা চোঙদারকে ফেসবুকেই আক্রমণ করেছেন তিনি। মহিলা কাউন্সিলারের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে নোংরা বলেও উল্লেখ করেছেন নিত্যানন্দবাবু। তাঁর কথায়, “এটা দুমাস আগের তোলা ফটো। ১৯৮০ সাল থেকে আমার আগ্নেয়াস্ত্রর লাইসেন্স আছে। প্রায় দুমাস আগে পুরসভা অফিসে বসে আড্ডা চলছিল। তখন কাউন্সিলার চাঁদনিহারা বেগম আমাকে বলেন আপনার খেলনাটি দেখান। তখনই এটা আমি দেখিয়েছিলাম। আমি এটা দেখিয়ে কাওকে কোনও দিন ভয় দেখাইনি।” মল্লিকা চোঙদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই মহিলা নোংরা। তাই এই ছবিটা পোস্ট করে মিথ্যা প্রচার করছেন। আমাকে এবং আমার দলকে বদনাম করার জন্যই মল্লিকা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”

গুসকরা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মল্লিকা চোঙদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় রিভলভার নিয়ে ঘোরেন। লোককে চমকান। লাইসেন্স থাকলেই চমকানো যায়? পুরসভার মধ্যে প্রদর্শন করা যায়? প্রশ্ন তোলেন মল্লিকা চোঙদার। তিনি আরও জানিয়েছেন, নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় কয়েকদিন আগেই একটি জায়গাজমি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। তখন তিনি বন্দুক নিয়ে চমকিয়েছিলেন। নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় তাঁর চরিত্র নিয়ে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছেন বলেও তিনি অভি্যগ করেছেন।

বিষয়টি নজরে আসতেই ফেসবুকের ওই ছবিটিতে গুসকরা পুরসভার পুরপ্রধান বুর্দ্ধেন্দু রায় মন্তব্য করেছেন, “এটা না পোস্ট করলেই ভালো হতো। এটা নোংরামি হলো।” পুরসভার ভিতরে লাইসেন্স থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করা নিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) এবং বর্ধমান সদর মহকুমা শাসক দুজনেই সাংবাদিকদের জানান, এই ধরণের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়ম নেই। তবে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন না হলেই ভালো। পাশাপাশি মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে কাওকে ভয় দেখানোর অভিযোগ হলে তবেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে।

-------
----