কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অসম পুলিশের ধস্তাধস্তির ছবিতে আলোড়িত দেশ৷ শিলচর বিমান বন্দরে তৃণমূলের মহিলা সাংসদের সঙ্গে অসম পুলিশের মহিলা কর্মীদের হাতাহাতি ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের আটকে রাখা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন: মমতার ‘খামখেয়ালিপনায়’ পদত্যাগ তৃণমূল রাজ্য সভাপতির

Advertisement

তৃণমূল নেত্রী বলেছেন, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে শিলচরের পরিস্থিতি জানতে গিয়েছিলেন সাংসদ-বিধায়কদের দল৷ অথচ তাঁদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হল যেটা অনভিপ্রেত৷ এখন বলা হচ্ছে শিলচর পুলিশের অধীনে কোনও হোটেলে তাঁদের রাখা হবে৷ কে তাঁরা থাকবেন ? এদিকে শিলচর শহরে ঢুকতে না পেরে বিমান বন্দরেই থেকে গিয়েছেন তৃণমূল প্রতিনিধিরা৷ তাঁরা জানিয়েছেন, অসম পুলিশ বিশেষ পাহারায় তাদের হোটেলে থাকতে বলেছে৷ এই প্রসঙ্গেই মমতা বলেন, কেন ওরা পুলিশের নির্দেশে হোটেলে থাকবেন৷ ওরা কি সেখানে মাছ ভাত খেতে গিয়েছেন ?

পড়ুন আরও- দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে বাংলা ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত: আবুল বাশার

এদিকে শিলচর থেকে দিনের শেষ বিমানটি ছেড়ে গিয়েছে বলেই খবর৷ জানা যাচ্ছে আটকে পড়া তৃণমূল সাংসদ-বিধায়কদের দল অবস্থান কর্মসূচি নিতে চলেছেন৷ সূত্রের খবর, তাঁদের গ্রেফতার করতে পারে অসম সরকার৷

পড়ুন আরও- এনআরসি: ‘নাম কাটা যাওয়া বিজেপি বিধায়করা পদত্যাগ করুন’

অসমে এনআরসি চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ হওয়ার পরেই সে রাজ্যে বাংলাভাষীরা চিন্তিত৷ ৪০ লক্ষের বেশি মানুষের নাম কাটা পড়েছে৷ এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর নির্দেশে বৃহস্পতিবার গুয়াহাটি হয়ে শিলচর যায় তৃণমূলের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল৷ শিলচর বিমানবন্দরেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ৷ বলা হয় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঢুকতে পারবে না ৷ এরপরেই বচসা শুরু হয় দু পক্ষের৷ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে তৃণমূল প্রতিনিধিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে পুলিশ৷

কলকাতায় মমতা বলেন, আসানসোলে গোষ্ঠী সংঘর্ষ হয়েছিল৷ তাতে তিনজনের মৃত্যু হয়৷ সেখানেও ১৪৪ ধারা জারি ছিল৷ তারই মধ্যে বিজেপি প্রতিনিধিরা গিয়ে সেখানে উসকানি ছড়িয়েছিলেন৷ আমর প্রতিনিধিরা শুধুমাত্র শিলচরবাসীর সঙ্গে কথা বলতেন৷ একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল৷ সেটিও পরে বাতিল করা হয়েছে৷ তবুও যেভাবে অসম সরকার পুলিশ দিয়ে তাদের আটকে দিল তাতে মনে হয় দেশে সুপার ইমার্জেন্সি চলছে৷

অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সে রাজ্যে বাংলাভাষীরা চিন্তিত৷ কাছাড়. শিলচর, হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ এলাকার বেশিরভাগ বাঙালিরা গুয়াহাটি যাওয়ার পথে মেঘালয় সীমান্তে আক্রান্ত হচ্ছেন৷

----
--