নির্দল কাঁটা এখনও ভোগাচ্ছে শাসকদলকে

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রথম থেকেই ‘গোঁজ’, ‘বিক্ষুব্ধ নির্দল’ প্রার্থীরা গলার কাঁটা হয়ে ছিল তৃণমূলের৷ ভোটের ফলাফল বের হতে সে কাঁটা যেন আরও একটু খুঁচিয়ে দিল দলকে৷ তৃণমূল এতদিন যে নির্দল প্রার্থীদের নিয়ে হম্বিতম্বি করেছে৷ দল থেকে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছে৷ তারাই ধীরে ধীরে নরম করছে সুর৷ খোদ দলনেত্রী বলেছেন ভেবে দেখার কথা৷ মহাসচিবও দেখতে চান সমস্যাটা কোথায় হয়েছে৷ হতে পারে বিক্ষুব্ধ নির্দল প্রার্থীদের সঙ্গে আলাদ করে বসবে দল৷

কংগ্রেস, সিপিএমের মত দলকেও এবারের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছে নির্দল৷ রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি৷ তৃতীয়টা দখল করেছে নির্দল৷ সেক্ষেত্রে রাজ্য পঞ্চায়েত স্তরে তৃতীয় শক্তি তারা৷ স্বভাবতই নির্দল নিয়ে ‘বড় বড় কথা’ আর শাসকদলের মুখে শোনা যাচ্ছে না৷

এতদিন রীতিমত মিটিং, মিছিল করে শাসকদলের নেতা, মন্ত্রীরা জানিয়েছিলেন বিক্ষুব্ধ কোনও তৃণমূল কর্মী নির্দলের হয়ে ভোটে দাঁড়ালে তাঁর কপালে ‘অশেষ দুঃখ’ আছে৷ দল থেকে বের করে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকেই চিন্তাভাবনা বদলাতে শুরু করেছে তারা৷

- Advertisement -

নবান্নে এদিনই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘তৃণমূল থেকে অনেকে নির্দল দাঁড়িয়েছিল৷ তাঁরা এখন ফিরতে চেয়ে আবেদন করছে৷ আমি বলেছি তাঁদের নিয়ে পরে কথা হবে৷ পরে সিদ্ধান্ত নেব৷’’ আর শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্দল প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় তো সুর নামিয়ে আনলেন খাদে৷ বারবার তাঁর মুখে শোনা গেল, এত প্রার্থী কেন নির্দলের হয়ে লড়লেন তা খতিয়ে দেখবে দল৷ গোঁড়ায় গিয়ে সমস্যার উৎস সন্ধান করতে চান তাঁরা৷

প্রথমে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নির্দল প্রার্থী কেন হয়েছেন তা আমরা দেখব৷ কেউ লজ্জায় হয়ত নিজের দলের সামনে আসতে পারেননি৷ কাউকে দল হয়ত প্রতীক দেয়নি৷ তবে বেশিরভাগ নির্দল কোথায় জয় পেয়েছেন তা খবর নেব৷ দলীয় স্তরে আমরা খবর নিতে শুরু করেছি৷’’

এরপরই তৃণমূলের মহাসচিবের বক্তব্য, ‘‘আরেকটা জিনিস বুঝতে হবে এটা তো লোকসভা বা বিধানসভা ভোট নয়৷ আমি খতিয়ে দেখছিলাম নির্দলের সংখ্যা গ্রামপঞ্চায়েতে সবথেকে বেশি৷ জেলা পরিষদে তো নেই৷ পঞ্চায়েত সমিতিতেও একদম অল্প৷ এটা গ্রামীণ স্তরে একটা সমস্যা৷ আমরা দেখব কেন এটা হল৷ দল হিসাবে আমরা তার বিশ্লেষণ করব৷’’

তবে কংগ্রেস, সিপিএমের তুলনায় নির্দল বেশি হওয়ায় কিঠুটা স্বস্তিতে তৃণমূল৷ পার্থবাবু বলেন, ‘‘এটা একটা দিক৷ বোঝা গেল, বাম বিজেপির প্রতি তাদের খুব একটা সমর্থন ছিল না৷’’ তবে বোর্ড গঠনের আগে পর্যন্ত এই নির্দল যে তৃণমূলকে স্বস্তি দেবে না তা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শরীরী ভাষায় ভালই বোঝা গেল৷

Advertisement ---
-----