বিরোধী প্রার্থীকে মিষ্টি মুখ করিয়ে সৌহার্দ্যের রাজনীতি শাসকের

স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: উলট পুরাণ! ভোট মিটলেও রাজ্যের জেলায় জেলায় বিরোধীদের ওপর আক্রমণ জারি রাখার অভিযোগ উঠছে শাসকদলের বিরুদ্ধে৷ বীরভূম সহ একাধিক জেলায় বিরোধীদের জয়ী প্রার্থীদের জোর করে দলে টানার একাধিক অভিযোগও উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে৷ সেখানে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের অন্য ছবি ধরা পড়ল আলিপুরদুয়ার জেলায়৷

ভোটের ময়দানে একে অপরকে গালমন্দ করতে রেয়াত করেননি যুযুধান দু’পক্ষই৷ কিন্তু ফল ঘোষণা হতেই এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি পরাজিত বিরোধী দলের প্রার্থীদের বাড়ি বয়ে গিয়ে মিষ্টি মুখ করিয়ে এলেন শাসকদলের জয়ী প্রার্থীরা৷

একইসঙ্গে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে চাইলেন সহযোগিতা ও আর্শীবাদ৷ রবিবার ছুটির দিনে এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকলেন আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা ধরকলোনি, ধানহাটি এবং বিধাননগর গ্রামের বাসিন্দারা৷

- Advertisement -

শামুকতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধরকলোনি এলাকায় নির্দল প্রার্থী রতন শর্মাকে পরাজিত করে জয়ী হয় তৃণমূলের পবন রাই। অন্যদিকে বিধাননগর কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী সবিতা দে সরকার৷

জানা গিয়েছে, এলাকার মানুষ তাঁদের জয়ী করার জন্য ১০ টাকা দামের দু’হাজার রসগোল্লার বরাত দিয়েছিলেন স্থানীয় মিষ্টি দোকানে৷ রবিবার সেই রসগোল্লা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তো বটেই বিরোধী প্রার্থীদের বাড়ি গিয়েও মিষ্টি মুখ করালেন৷ চাইলেন সহযোগিতার আশ্বাস৷

পবনবাবু ও সবিতাদেবী বলেন, ‘‘ভোট শেষ৷ এখন রাজনীতির রঙ ভুলে আমি সকলের জন প্রতিনিধি৷ সকলকে নিয়ে কাজ করতে চাই৷ তাই খুশীর দিনে সকলকে মিষ্টি মুখ করালাম৷’’ শাসকদলের প্রার্থীর এহেন উদ্যোগে খুশি পরাজিত নির্দল প্রার্থী রতন শর্মাও৷ তাঁর কথায়, ‘‘সারা রাজ্যে যখন হিংসা, হানাহানি অব্যহত তখন এই উদ্যোগ সত্যি নজিরবিহীন৷ ভোটে হারলেও আমি ওদের উন্নয়নের কাজে সব ধরণের সহযোগিতা করব৷’’

শাসকদলের প্রার্থীর এহেন উদ্যোগে খুশী এলাকাবাসী বলছেন- আমরা সঠিক প্রার্থীকেই নির্বাচিত করেছি৷ এমন রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের পরিবেশই তো কাম্য৷

Advertisement ---
---
-----