ছাত্রনেতা খুনে গ্রেফতার তৃণমূলের মুন্না

কোচবিহার: অবশেষে পুলিশের জালে কোচবিহারের তৃণমূল নেতা মুন্না খান৷ তৃণমূলের ছাত্র নেতা মাজিদ আনসারি খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় মুন্নাকে৷ মুন্নার বিরুদ্ধে দুষ্কৃতীদের উষ্কানি দেওয়ার অভিযোগও তোলে মাজিদের পরিবার৷ অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতেই মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়৷ এদিকে শুক্রবার কোচবিহার শহর বনধের ডাক দিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ৷ সকাল থেকেই বনধের চেহারা সর্বাত্মক৷ অবশ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দাবি, এ বনধ তারা ডাকেনি৷ ডেকেছে জেলার ছাত্র-ছাত্রীরা৷

কোচবিহারে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা মাজিদ আনসারির খুনের প্রতিবাদে ডাকা কোচবিহার শহর বনধ কার্যত সফল৷ সকাল থেকেই কোচবিহার শহরের দোকান বাজার, বেসরকারি বাস সবই ছিল বন্ধ। সকালে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার টার্মিনাসের গেট বন্ধ করে দেন বনধ সমর্থকরা৷

আরও পড়ুন: আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ! দুপুর গড়াতেই বন্ধ হবে দেশের এই মন্দিরগুলির দরজা

- Advertisement -

পরে অবশ্য পুলিশের সহায়তায় সরকারি বাস চালু হয়। বনধের প্রভাব পড়েছে কোচবিহার আদালতেও৷ ডান, বাম সকল আইনজীবীরাই এই বনধে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন৷ ফলে আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম এদিন অনেকটাই ব্যহত৷ পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতে শুক্রবার বিভিন্ন পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে৷

বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁর এই খুনে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মুন্না খানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়৷ অন্যদিকে শুক্রবারের বনধ তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ডাকেনি এই দাবি তুলে সংগঠনের রাজ্য সহ সভাপতি রাহুল রায় বলেন, ‘‘এই ধর্মঘট আমরা ডাকিনি৷ ছাত্র ছাত্রীরা ডেকেছে৷ এবং সেখানে স্বতঃস্ফূর্ত প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: ভারতীয় বাজারে খুব শীঘ্রই আসছে Moto G6 Plus

এদিন কোচবিহার স্টেশন মোড় এলাকায় বনধের সমর্থকরা টায়ার পুড়িয়ে রাস্তা অবরোধ করেন৷ এবং সেখানে কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়। যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায় এদিন ধৃত মুন্না খানের বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে৷

কোচবিহার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাজিদ আনসারি৷ গত ১৩ জুলাই কলেজে বহিরাগতদের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা বাধে। এরপর তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন কোচবিহার শহরের রেলঘুমটি এলাকায় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিলিগুড়ির একটি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল৷

আরও পড়ুন: ‘মার’ খাওয়ার শপথ নিয়ে সরকার গড়তে চললেন ইমরান

বুধবার রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় মাজিদের৷ এই ঘটনায় মাজিদের পরিবারের তরফে আগেই কোতোয়ালি থানায় সাতজনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল৷ সেখানেই অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দিচ্ছে মুন্না৷ আর তাই ঘটনার পর এতগুলো দিন কেটে গেলেও কেউ গ্রেফতার হয়নি৷ এনিয়ে সরগরম ছিল কোচবিহার৷ বৃহস্পতিবার রাস্তা অবরোধ, বনধ পালন, মাজিদের এক সহপাঠীর হাতের শিরা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনাও ঘটে৷ এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার হয় মুন্না৷

Advertisement ---
---
-----