মানব গুহ, কলকাতা: সামনেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে সব রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে৷ ব্যতিক্রম নয় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও৷

কীভাবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি হবে? কারা দায়িত্বে থাকবেন? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে৷

আরও পড়ুন: ফেডারেল ফ্রন্টের সলতে পাকাতে মমতার কাছে চন্দ্রশেখর

আর সেই নির্দেশই অমান্য করার অভিযোগ উঠল দলের অন্দরেই৷ আর এই অভিযোগ উঠেছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে৷ অন্তত তৃণমূলের একটি সূত্র থেকে এমনটাই জানা গিয়েছে৷ এই নিয়ে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে হইচই পড়ে গিয়েছে৷ সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর৷

তৃণমূলের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার তৃণমূল ভবনে দলের কোর কমিটির বৈঠক হয়৷ বৈঠক ডেকেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সি৷ সেখানে দলের নেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় পঞ্চায়েত ভোটের কাজে ব্যবহার করতে হবে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের৷ যদিও তার কয়েকদিনের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে৷

আরও পড়ুন: জোট ধাক্কায় গো-বলয়ে ৫০টি কেন্দ্র হারাচ্ছে বিজেপি: রিপোর্ট

কী সেই অভিযোগ? তৃণমূলের ওই সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বৈঠকে পঞ্চায়েত ভোটের জন্য পর্যবেক্ষকদের একটি তালিকা চূড়ান্ত হয়৷ সেই তালিকায় খড়দহের দায়িত্বপ্রাপ্তকে নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি৷ কারণ, তিনি বর্তমানে রাজ্যের এক মন্ত্রীর অন্যতম আপ্ত সহায়ক৷ একে তিনি সরকারি কর্মচারী৷ তার উপর খড়দহের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই৷ তাঁর বাড়ি নদিয়ার চাকদহে৷ এখন থাকেন দক্ষিণ কলকাতায়৷

তাই তাঁকে কেন পর্যবেক্ষক করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলপাড় হয় বৈঠক৷ হট্টগোলের মধ্যে বৈঠক শেষ হয়ে যায়৷ পর্যবেক্ষকদের ওই তালিকা বহালও হয়ে যায়৷ ফলে এ নিয়ে দলের একটি অংশ ক্ষুব্ধ৷ সূত্রের খবর, আজ, সোমবার সকালে তাঁরা সুব্রত বক্সি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানাবেন৷ তাঁদের বক্তব্য, দলের কোর কমিটির বৈঠকে সুব্রত বক্সি যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাতে তৃণমূল নেত্রীরও অনুমোদন রয়েছে৷ ফলে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করার সাহস কী করে হয়?

আরও পড়ুন: পঞ্চায়েত ভোটের দায়িত্ব থেকে সরানো হল মেয়র শোভনকে

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কেন মমতার নির্দেশ উপেক্ষা করছেন? সূত্রের খবর, পর্যবেক্ষকদের হাতেই অনেকটা ক্ষমতা থাকে৷ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কে প্রার্থী হতে পারেন, কীভাবে প্রচার হতে পারে, কত খরচ হতে পারে, সবটাই ঠিক করার এক্তিয়ার থাকে পর্যবেক্ষকদের৷ ফলে নিজের লোক ওই পদে থাকলে সুবিধা হয় বড় নেতাদের৷ এক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি৷

যদিও এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তৃণমূলের জেলাস্তরের সমস্ত নেতারা৷ বারাকপুর অঞ্চলে দলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অর্জুন সিংও এ নিয়ে কিছু বলতে চাইলেন না৷ তবে সরকারি কর্মচারীকে এই ধরনের দায়িত্ব কীভাবে দেওয়া যায়, সেই প্রশ্ন অবশ্য তিনি তুলেছেন৷

আরও পড়ুন: গেরুয়া ঝড় রুখতে ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ই ভরসা শাসকের

----
--