কলকাতা: ২০১৬-র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল শুধু যে ২০০-র উপর আসন পেয়ে জিতেছে তা নয়, তাদের ভোটও বেড়েছে অনেক বেশি৷ ২০১১ সালে যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল প্রদত্ত ভোটের ৩৮.৪ শতাংশ, সেখানে এবার তারা পেয়েছে ৪৪.৯ শতাংশ৷ অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ৷ মনে রাখা দরকার, এবার তাদের সঙ্গে কোনও দলের জোট ছিল না৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল একাই লড়েছিল৷ ২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে ছিল কংগ্রেস, আর এসইউসি-র মতো কুচো দল৷ গত বিধানসভা ভোটের সঙ্গী কংগ্রেস এবার ছিল সাপ-নেউল জোটের অন্যতম শরিক৷ অর্থাৎ তৃণমূলের প্রতিপক্ষ৷ লোকসভা ভোটের আগে থেকেই তারা বিপক্ষ শিবিরে৷ তা সত্ত্বেও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার কমেনি৷ বেড়েই ছিল৷ ৩৯.৭ শতাংশ৷ কিন্তু ২০১৬-র বিধানসভায় সেই হার একলাফে বেড়েছে কমপক্ষে ছয় শতাংশ৷

পক্ষান্তরে কী হাল দাঁড়িয়েছে সাপ-নেউল শিবিরের? সিপিএম তথা বামেরা এবার পেয়েছে প্রদত্ত ভোটের ২৫.৯ শতাংশ৷ ২০১১ সালে তারা পেয়েছিল ৩৯.৫ শতাংশ ভোট৷ ২০১৪ সালের লোকসভায় তা কমে হয় ২৯.৯ শতাংশ৷ এবার নেউলের সঙ্গে জোট গড়ে তা আরও নীচে নেমে গিয়েছে৷ মাঝখান থেকে লাভবান হয়েছে কংগ্রেস শিবির৷ ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জোট গড়ে তারা পেয়েছিল প্রদত্ত ভোটের ৯.৫ শতাংশ৷ লোকসভার সময় তা কষ্টেসৃষ্টে ০.২ শতাংশ বাড়ে, হয় ৯.৭ শতাংশ৷এবার সেই হার বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৩ শতাংশে৷mamta-bengal

Advertisement

এর পর বিজেপি-র পালা৷ যদিও বিজেপি ২০১৬-র বিধানসভায় তিনটি আসন পেয়েছে৷ খড়্গপুর টাউন, আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট এবং মালদহের বৈষ্ণবনগর৷ কিন্তু তাদের প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের থেকে বেশ কমেছে৷অবশ্য ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটের নিরিখে ধরলে বেড়েছে অনেকখানি৷ ২০১১ সালের ভোটে বিজেপি পেয়েছিল প্রদত্ত ভোটের ৪.১ শতাংশ৷ ২০১৪ সালের তুমুল মোদী হাওয়ায় সেই হার বেড়ে হয় ১৬.৯ শতাংশ৷ ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে এসে সেই বৃদ্ধির হার ঝপ করে কমে গিয়েছে৷ হয়েছে ১০.২ শতাংশ৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে দফায় দফায় প্রচারে এলেও সামগ্রিকভাবে ভোটের হার বাড়েনি৷ উলটে কমেছে৷ তবে হ্যাঁ, আসন সংখ্যা বেড়েছে৷ এবার একদিকে বিজেপি খুইয়েছে একটি বিধানসভা আসন বটে, কিন্তু অন্যদিকে পেয়েছে তিনটি৷

যদিও ২০১৬-এ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের যে শতকরা হার Kolkata 24×7-এ তুলে দেওয়া হল তা তাৎক্ষণিক হিসাব কষে ধরা হয়েছে৷ এখনও পাকা হিসাব নির্বাচন কমিশন থেকে মেলেনি৷ আমাদের পোর্টাল এই হিসাব পেয়েছে The Telegraph-এর সৌজন্যে৷

 

----
--