‘কর্মনাশা’ ধর্মঘট রুখতে বিমাকেই হাতিয়ার মমতার

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সোমবার ভারত বনধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস৷ এই বনধের সমর্থন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল৷ এদিকে কয়েকটি বামপন্থী দল ও সিপিএম একইসঙ্গে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট পালনেরও ডাক দিয়েছে৷ সবমিলে বিরোধীদের চাক্কা জ্যামে বিপর্যস্ত হতে পারে জনজীবন৷

কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস ‘কর্মনাশা’ বনধের বিরোধী৷ এবার তাই বনধের ইস্যুর সমর্থক হলেও বিরোধীদের ডাকা হরতাল রুখতে মরিয়া রাজ্য সরকার৷ বরাবরের মতো বনধ রুখতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবার ভোর ৫টা থেকেই যান চলাচল করবে রাস্তায়৷ থাকবে অতিরিক্ত ট্রাম, বাস ও ফেরির সুবিধা৷ নামানো হবে অতিরিক্ত সরকারি বাস৷ রাস্তায় বেরিয়ে পথ চলতি মানুষ যাতে অসুবিধায় না পড়েন তার জন্য থাকবে দূরপাল্লার বাসের সুবিধাও৷

এদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি বনধ তুলতে আসেন তাহলে প্রমাণ হবে তিনি বিজেপি ও মোদীর নীতিকেই সমর্থন করছেন৷

- Advertisement DFP -

নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে সোমবার সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের অফিসে আসতে হবে৷ বনধের দিন অফিসে গরহাজির হলে কাটা যাবে একদিনের বেতন৷ এছাড়া সমস্ত দোকানপাট খুলে রাখার জন্য বলা হয়েছে৷ বন্ধ রাখা যাবে না দোকান-পাট৷ দোকান খুলতে বাধা দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়৷ তবে শুধু দোকানপাট খুলতে বাধাই নয়, গাড়ি চলাচলে বাধার সম্মুখীন হলেও নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা৷

শুধু তাই নয়, বনধের দিনে রাস্তায় গাড়ি নামিয়ে বিপাকে পড়লে বা গাড়ি ভাঙচুর হলে মিলবে বিমার সুবিধাও৷ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত মিলবে ক্ষতিপূরণ৷ রাজ্য সরকার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ধর্মঘটে বেরিয়ে গাড়ি ভাঙচুর হলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে করতে হবে এফআইআর৷ বিমার টাকা মিলবে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে৷

সোমবার বনধে সামিল না হলেও ওই একই ইস্যুতে দুপুরে মৌলালি থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস৷ কিন্তু সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য রাস্তার একপাশ ঘেঁষে হবে মিছিল৷ অন্যপাশ দিয়ে চলবে যানবাহন৷ শনিবারই একথা জানান তৃণমূল কংগ্রেস সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ ধর্মঘটে মানুষকে পথে নামাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস৷

Advertisement
----
-----